1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. : admin :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাবা-মাকে নির্যাতন: ছেলেকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা - দৈনিক আমার সময়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাবা-মাকে নির্যাতন: ছেলেকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

মোঃ আল মামুন,জেলা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
    প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেটানোর মামলায় তাদের মেঝো ছেলে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছে আদালত। এখানেই শেষ নয় অভিযোগের৷ অসুস্থ বাবা-মাকে মেজো ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে বড়ভাই মার খেতে হয়েছে৷
এই অমানবিক ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মধ্যপাড়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত নজরুল ইসলাম থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন।
গত সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারী) নির্যাতনের শিকার হাজী তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আদালতে দণ্ডবিধি ৩২৩/৩৮০/৪২৭/৫০৬(২) ধারায় মামলা করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসনাত জাহান নিপা অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং গ্রেপ্তারে পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মুস্তাফিজুর রহমান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বাদী তাজুল ইসলাম খুব সহজসরল। তার ৪ ছেলে ও তিন মেয়ে। আসামী জহিরুল ইসলাম সহ তারা ৪ভাই মিলিয়া ঘটনাস্থলে ৫ তলা বিল্ডিং নির্মাণ করেন এবং নিচতলার দক্ষিন পাশে একটি গ্যারেজও ভাড়া দেন। আসামী জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত তার ভাই-বোনদের জায়গা জমি ও বাড়িঘর জবর দখল করতে চেষ্টা করেন। জহিরুল ইসলাম ২/৩ মাস পূর্বে গ্রামের ঘরবাড়ি ও শহরের ৫ তলা বিল্ডিং দখল করতে গেলে তাকে বাদি তাজুল ইসলাম বাধা দিলে জহিরুল কোদাল দিয়ে তাজুল ইসলামের মাথা, পিঠে ও দাফনায় বাইরাইয়া নীলা ফুলা জখম করেন। আসামীকে দুইবার বিদেশও পাঠিয়েছিল তারা। তাজুল ইসলামের ছোটছেলে রফিকুল ইসলাম আশুগঞ্জের লা-ভিডা শেয়ার ক্রয়ের ১০ লাখ টাকার চেক জহিরুল ইসলাম জোরপূর্বক ভাবে কারিয়ে নেন। পরবর্তীতে আসামী জহিরুল ইসলাম শহরের নির্মীত ৫ তলা বিল্ডিং উঠতে বাধা সৃষ্টি করেন। আসামী জহিরুল ইসলাম বাড়ি ও জায়গা সম্পত্তি বে-আইনী ভাবে একক দখল নেওয়ার জন্য সুযোগ খুজতে থাকে। জহিরুল বাদী তাজুল ইসলামের কাছে আসিয়া বাড়িঘর ও জায়গা সম্পত্তি  মালিকানা হস্তান্তর করতে চাপ দেন। তা অস্বীকার করায় তাজুল ইসলাম ও হেনেরা বেগমকে আবার কিল ঘুষি, লাথি মারিয়া মাটিতে ফালাইয়া লাঠি দিয়া সমস্ত শরীরে বাইরাইয়া শক্ত দাগ ও নীলা ফুলা জখম করেন। এসব বিষয় প্রতিবাদ করায় বাদির বড়ছেলে নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন জহিরুল। বাদির ছোট ছেলে রফিকুল ইসলামের স্ত্রীর ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৮০ হাজার টাকা চুরি করিয়া নিয়ে যায়। তারপর ঘরে থাকা জিনিসপত্র ভাংচুরসহ জায়গা সম্পত্তির মালিকানা ও দখল না করিয়া মামলা মোকদ্দমা করিলে প্রানের খুন করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলবে বলে জহিরুল ইসলাম তাদের হুমকি দেন।
মামলার বাদী হাজী তাজুল ইসলাম বলেন, আমার মেজো ছেলে জহিরুল ইসলাম জায়গা সম্পত্তি ও বাড়ির একক মালিকানার জন্য আমাকে ও বড়ছেলেকে একাধিকবার পিটিয়েছে। আমার ছেলে হাসপাতালে ভর্তি আছে। জহিরুলের অত্যাচার আমরা অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। আমার কোন ছেলে-মেয়েই নিরাপদে নেই। বিভিন্ন ভাবে আমাদেরকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তিনি আইনী সহযোগিতা ও বিচারের দাবী জানান।
আহত নজরুল ইসলাম জানান, গত দুদিন আগে জহিরুল আমাদের বাড়ির সামনে আমাকে কাঠ দিয়ে বাইরাইয়া রক্তাক্ত করেছে৷ বাড়ির ভাড়াটিয়াদেরকে জহিরুল মারতে আসে, তার কারনে বাড়ির ভাড়াটিয়ারাও শান্তিতে নেই। কোন ভাবে জহিরুলকে প্রতিহত করা যাচ্ছে। সে মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের টাকার জন্য আমার বাবা-মাকে এর আগেও একাধিকবার মারধর করেছে। আমরা খুব অসহায়।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আসলাম হোসাইন জানান, আদালত থেকে জহিরুলের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা পেয়েছি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছেন। তাছাড়া জহিরুলের বড়ভাই নজরুল ইসলামকে মারধোরের করার অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছি। খুব দ্রুত জহিরুলকে গ্রেপ্তার করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com