,
গাজীপুরের শ্রীপুরে মোশাররফ হোসেন নামে এক অটোরিকশা গ্যারেজ ব্যবসায়ীকে আটকের প্রতিবাদে র্যাবের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত শ্রীপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের বরামা চৌরাস্তায় এ অবরোধের ঘটনা ঘটে। এরআগে, একই দিন বিকেলের দিকে র্যাপীট এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) উত্তরার সদস্যরা মোশারফ হোসেন নামের ওই ব্যবসায়ীকে অস্ত্রসহ আটক করে।
আটক মোশাররফের স্বজনদের অভিযোগ, র্যাব তাদের গাড়িতে অস্ত্র এনে ওই ব্যবসায়ীকে অস্ত্রসহ ফাঁসিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলের দিকে শ্রীপুর উপজেলার বরামা চৌরাস্তার অটোরিকশা গ্যারেজ ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন তার দোকানে বসে ছিলেন। এসময় র্যাব সদস্যরা দুটি গাড়িতে এসে দোকানে ঢুকে মোশারফকে অস্ত্রসহ আটকের কথা জানায়। পরে তাকে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করা হলে মোশাররফের স্বজনরা জড়ো হয়। এসময় র্যাবের গাড়িতে করে অস্ত্র এনে মোশারফ ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে, কি ধরনের অস্ত্র পাওয়া গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, জহিরুল ইসলাম লিটন নামে একাধিক মামলার আসামি শুক্রবার রাতে বরমা এলাকায় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদে ঐদিন রাত তিনটা পর্যন্ত স্থানীয়রা একই স্থানে বিক্ষোভ করে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে তাদের সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, বরামা ডুলি বাড়ির লোকজন ভিন্ন টাইপের মানুষ। তাদের একজনের কিছু হলে সবাই একজোট হয়ে বের হয়। মাদকসহ বেশ কিছু অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই।
র্যাব-১ গাজীপুরের পোড়াবাড়ি ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়,’র্যাবের উত্তরা ক্যাম্পের সদস্যরা বরমী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় অস্ত্রসহ একজনকে আটক করা হয়। তবে স্থানীয়দের কয়েকজন র্যাব সদস্যদের গাড়ি আটকে রাখে। পরে থানা পুলিশ, র্যাব পোড়াবাড়ি ক্যাম্প ও পরে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় ১০ জনের মতো আটক হয়েছে। কি ধরনের অস্ত্র পাওয়া গেছে এ বিষয়ে পরে জানা যাবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজনে কোম্পানি কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয় নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ব্রিফ করবেন। সেসময় পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানানো হবে।’
ঘটনাস্থলে অবস্থান করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন,’ খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আমিসহ ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করি। এ ঘটনায় আটক ও অন্যান্য বিষয়ে যারা অভিযান পরিচালনা করেছেন তাদের কর্মকর্তারা জানাবেন।’
Leave a Reply