শনিবার(৯মার্চ) সকাল সোয়া ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ চলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের এ এ ইয়ার্ন মিলস্ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা সকাল ছয়টা থেকেই জয়নাবাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। সোয়া ছয়টার দিকে তারা সরকার নির্ধারিত বেতনের দাবিতে সম্মিলিতভাবে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় জৈনাবাজারের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কিছু যানবাহনে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়তে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে সকাল পৌনে আটটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে মজুরি ন্যূনতম ১২ হাজার ৫’শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কারখানা কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী বেতন পরিশোধ করছে না। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছেন।
আন্দোলনকারী নাসিমা বলেন, তিন মাস ধরে বলা হচ্ছে নতুন নিয়মে বেতন দেওয়া হবে। তবে বাস্তবে তা পরিশোধ করার উদ্যোগ নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।
অপর শ্রমিক রমজান আলী বলেন, ‘ আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। অথচ আমাদের উপর পুলিশ টিয়ারশেল ও গুলি চালিয়েছে। আমরা আমাদের কথা কার কাছে বলবো
এ এ ইয়ার্ন মিলস্ লিমিটেড কারখানার প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ সুলতান বলেন,” উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের দাবি আমরা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি”।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ জামান দৈনিক আমার সময়কে বলেন,” খবর পেয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে”।
উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ একই দাবীতে আন্দোলন করেছে জমজম স্পিনিং মিলস লিমিটেডের শ্রমিকরা। গত বছরের শেষের দিকে শ্রমিকদের বিভিন্ন সময়ে দাবিদাওয়ার প্রেক্ষিতে সরকার পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে। মোট চারটি গ্রেডে এই বেতন পরিশোধে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নিম্নতম মজুরি বোর্ড (এম ডব্লিউ বি) শ্রমিকদের নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে শিল্প মালিক ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে। তবে দেশের সুতা উৎপাদনকারী স্পিনিং কারখানাগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ে কি না, তা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়। মজুরি বৃদ্ধির পর থেকে এই সমন্বয়হীনতার কারণে দেশজুড়ে দফায় দফায় শ্রমিক বিক্ষোভ হতে দেখা গেছে।
Leave a Reply