বিশ্বের সেরা রাষ্ট্র্রনায়কের শুভ জন্মদিন

এইচ এম মেহেদী হাসান:

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হতো না। জাতীয় পতাকা, জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা বঙ্গবন্ধু আজীবন বাঙালি জাতির পাশে থেকে কাজ করে গেছেন।বঙ্গবন্ধু জাতি রাষ্ট্রের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি, জাতিকে দিয়েছেন পবিত্র সংবিধান সহ রাষ্ট্র এবং জাতির জন্য যা যা প্রয়োজন সবই বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন।বাঙালি জাতিকে আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন বঙ্গবন্ধু। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্ম না হলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব,মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ, মায়ের ভাষা বাংলা ভাষার মর্যাদা,ভাত ও ভোটের অধিকার, গণতন্ত্রের অধিকার এবং সারা বিশ্বের বিস্ময় উন্নয়ন ও শান্তির রোল মডেল কিছুই সম্ভব হতো না বাঙালির ভাগ্যে। পিতা মুজিবের মতো সততা,দক্ষতা, নেতৃত্ব গুণের অসীম সাহসের অধিকারী জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন উচ্চতর থেকে উচ্চতর স্থানে। বাঙালি জাতিকে মাথা উঁচু করে সগৌরবে বাঁচার প্রত্যায় এনে দিয়েছেন তিনি।তিনি পিতা মুজিবের আদর্শকে বুকে ধারণ করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ক্লান্তহীনভাবে ছুটে চলছেন তো চলছেন।তাঁর মনের শুধুমাত্র চাওয়া বাংলাদেশের মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ শুভ জন্মদিন। ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের এবং শেখ পরিবারে আলোকিত করে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ হাসিনা (হাসু)জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শেখ মুজিব তখন কলকাতায় ভারত ভাগের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দাঙ্গা প্রতিরোধ এবং লেখাপড়া নিয়ে মহাব্যস্ত।দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদী সায়রা খাতুনের স্নেহ-আশীর্বাদ নিয়ে তাঁর জীবন শুরু হয়। দাদা শেখ লুৎফর রহমান তাঁর নাম রাখেন ‘হাসিনা’। মা “বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তাকে বুকের ভিতর মমতায় জড়িয়ে রাখতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কন্যার জন্মের খবর পেয়ে, একদিন হঠাৎ বাড়ি এসে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে ‘হাসুমনি’ ডেকে আনন্দ প্রকাশ করে কপালে চুম্বন এঁকে দিলেন। সেইদিনই তার ভাগ্যের লিখন তৈরি হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর সেই আদরের নয়নমনি ছোট্ট ‘হাসুমনি ‘বড় হয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রিয় নেত্রী হয়ে উঠলেন এবং ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের সেরা রাষ্ট্র্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।আজ তিনি সারা বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন জাতিসংঘ কতৃক।সারা বিশ্বের মধ্যে আজ তিনি সততা ও আদর্শের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। বঙ্গবন্ধুর পরে শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র গণতন্ত্র শান্তি ও উন্নয়নের সফল রাষ্ট্র্রনায়ক।তিনি এখন সারা বিশ্বের বিস্ময়। গ্রামের নদী নালা -খাল-বিলের স্রোতের শব্দ এবং সবুজ প্রকৃতির গন্ধ মেখে তার শৈশব কাটে।সেখানেই শিক্ষা জীবন শুরু হয়। মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব (রেণু)’র ছায়া সঙ্গী হয়ে পিতার রাজনৈতিক জীবনকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখেন এবং নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে একজন আদর্শময়ী হিসেবে গড়ে তোলেন। শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির কান্ডারী। তাঁর মেধা, সাহস ও সততার কারণে, বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক। তিনি জাতি রাষ্ট্রের অলংকার। বাঙালি জাতি সত্তা,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ ধ্বংস করতেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি প্রতিকৃয়াশীল গোষ্টী।তাদের সঙ্গে মহা উৎসাহে যোগ দিয়েছিল ক্ষমতা লোভী ও সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদ,শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবি ও ব্যবসায়ী সমাজ। বঙ্গবন্ধুর বাঙালি জাতি তখন ছিল অসহায়, নির্যাতিত,অপমানিত, নিপীড়িত। ধর্মের দোহাই দিয়ে বাঙালির চিরশত্রু পাকিস্তানের স্বৈর সামরিক শাসকরা দেশকে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন গর্তের ভিতর ফেলে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করে জঙ্গী গোষ্ঠী ও সাম্প্রদায়িক শাসন কায়েমের ভিত রচনা করে। কিন্তু সেইসব লোভী ও বিশ্বাসঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্ত মেখে নিজেরাই হয়েছিল ঘাতক ও খুনী, তাই সেই ভিত শক্তিশালী হতে পারেনি।তাদের পাপী হৃদয়ের লালসা চরিতার্থ করতে পারেনি।খুনি মোশতাক -খুনি জিয়া বাঙালির অস্তিত্বকে মুছে ফেলার অপচেষ্টার প্রয়াস চালিয়েছিল। তাদের উচ্ছিষ্ট ভোগী লেভাসধারী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোভীরা কেউ কেউ তলে তলে তাদেরই সমর্থন করে গিয়েছিল। বাঙালি বাংলাদেশ বিশ্বে তখন মাথা নিচু করেই ছিল।ক্যূ-পাল্টা ক্যূ,গুম ও হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা, গণতন্ত্র এবং রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছিল। সুশাসনকে বুটের তলায় নিষ্পেষিত করে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। এক দিকে মুস্টিমেয় উচ্ছিষ্ট ভোগীরা ধনী থেকে ধনী হচ্ছিল, আর একদিকে গরীব আরও গরীব হয়ে পড়েছিল। দারিদ্র -দুর্ভিক্ষ অভাব অনটনে মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়ছিল। মুক্ত বাতাস নেবার মত পরিবেশ ছিল না দেশে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল এমনই অন্ধকারাচ্ছন্ন। সংশয় প্রতিহিংসা -দমনপীড়ন -শোষণ নির্যাতনে মানুষ ছিল অসহায়। কান্ডারীবিহীন নৌকা যেন দিশেহারা ছিল। আর সেই সময়ই ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে প্রবাসে অবস্হানরত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দলীয় সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর প্রতি লক্ষ লক্ষ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা। পিতার শোকের সান্ত্বনা তিনি সেদিন এই মানুষের মাঝে দেখেছিলেন এবং মনে মনে স্থির করেছিলেন পিতার অসমাপ্ত কাজ তাকেই সমাপ্ত করতে হবে এবং জীবন দিয়ে হলেও করতে হবে।এ কথা তিনি বার বার উচ্চারণও করেছেন।তারপর ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এক দীর্ঘ স্বৈরাচার সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছেন শেখ হাসিনা। নিজের দল সংগঠিত করতে হয়েছে, নেতা কর্মীদের মধ্যে আদর্শ স্হাপন করতে হয়েছে এবং দেশ ও জনদরদী নেতা হিসেবে তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত। পিতা বঙ্গবন্ধুর মতই অসীম, সাহসী, দৃঢ়তায় অবিচল দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন আদর্শবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা মানুষের কাছে আজ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নেতা।

দেশের যে কোনও সংকটে তাঁর নেতৃত্ব দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছে তিনিই একমাত্র গ্রহনযোগ্য। সেখানে দ্বিতীয় কোনও বিকল্প নেই। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করে শেখ হাসিনা প্রমান করেছেন শাসক হিসেবে তিনি যেমন দেশনন্দিত,তেমনি গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষাঠায় বিশ্বনেতার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত।তাঁর শাসনামলে আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য ও অর্থ বরাদ্দ এবং অন্যান্য সহযোগিতা মানুষকে অসহায়ত্ব থেকে রক্ষা করেছিল।দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণ করে তুলে তিনি দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্রের কষাঘাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে ভাগ্যোন্নয়নের পথে দাঁড় করিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সন্তানের অভিভাবক হিসেবে সর্ব ক্ষেত্রে পিতার পাশাপাশি মায়ের নামের স্বীকৃতিও ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকদের ঋন প্রদান, কৃষি সামগ্রীর মূল্যহ্রাস এবং সহজ প্রাপ্যতাও ছিল বিরাট অবদান।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম সরকার মানুষের কাছে আস্হা এনে দিয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপি জামাত জোট ভোট চুরি ও দেশীয় -আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে সরকারে আসে। বিএনপি জামাত জোট সরকার দেশ শাসনের নামে লুটপাট দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টিতে ইতিহাস গড়ে তোলে এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য বিরোধীদলকে দমন করার হিংসাত্বক পন্থা অবলম্বন করে নির্বাচন কমিশনকে এক হাস্যকর দলীয় করনের দৃষ্টান্ত করে তোলে। এরপরের ইতিহাস আমরা সবাই জানি যে কীভাবে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে তত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় এবং তারা দুই বছর দেশ শাসন করে।তারা শুধুমাত্র গণতন্ত্রকে অকার্যকর করে রাখে রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের কারারুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রেফতার ও নির্যাতন চালিয়েছে। দুভার্গ্যজনক হলো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও কারারুদ্ধ হন।নিঃসঙ্গ কারাগারে তাঁর ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি কারাগারে স্লোপয়জনিং করে তাঁকে হত্যা করার অপচেষ্টাও চালানো হয়। কারাবন্দী অবস্থায় কোটে তাঁর মামলা চলে,সেখানেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেন।তাঁর বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলার অভিযোগের কারণ, তিনি যেনো রাজনীতি করতে না পারেন অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে চির দিনের জন্য দূরে রাখা।এতো সব প্রতিকূল পরিবেশে মধ্যে পিতা মুজিবের মতো সাহসীকতার সাথে সব কিছু মোকাবেলা করে এগিয়েছেন। আর এই জন্যই ২০০৯ সালে দ্বিতীয় বার সরকার গঠন করেন তিনি।২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনা জাতিকে স্বপ্নদর্শী করে তোলার পাশাপাশি একুশ শতকের প্রযুক্তি উপযোগী হবার আহ্বান জানান।তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার সকল কর্মসূচি তৃণমূল থেকে শুরু করেন।দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং তার সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করে তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথকে উদার করে দিয়েছেন।এর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য,সংস্কৃতি, কৃষি ও কর্মসংস্হানের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে আজ মডেল হিসেবে বিশ্ব নেতৃত্ব বৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ করে তোলেন। এছাড়া তাঁর শাসনামলে নারীর ক্ষমতায়নও বিশ্বে এক বিশেষ উদাহরণ স্হাপন করেছে।শেখ হাসিনার প্রতি তাকিয়ে আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়,পুরো দক্ষিণ এশিয়া ও দরিদ্র অনুন্নত দেশের মানুষও। বর্তমান বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, দেশে দেশে মূল্য বৃদ্ধি ও বেকার সমস্যা জটিল হচ্ছে তখন তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছেন। শেখ হাসিনার কৃতিত্ব এখানেই। বিশ্বের বাঘা দেশের রাষ্ট্র্রপ্রধানরা যেখানে ইতি টানেন,আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেখান থেকে শুরু করেন।তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে তিনি গভীর আন্তরিক বলেই যেকোনো ভালো উদ্যোগকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে জানেন।বিশেষ করে কৃষি খাতের উন্নয়নে তাঁর কোন বিকল্প আজও আমরা দেখতে পাইনি। তিনি তরুণদের কাছে প্রযুক্তি ব্যবহারের অবাধ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেছেন।শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ভবিষ্যত প্রজন্মের বাসোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যেখানে শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্হান ছাড়াও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের বিরাট সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে শেখ হাসিনা তাঁর সততা,আত্মত্যাগ, দূরদর্শীতা ও দেশ প্রেমের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন এটাই হচ্ছে তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনা তৃতীয় বারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। টানা তৃতীয় বার ও চতুর্থবারের মতো সরকারে থাকার কারণে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বের বিস্ময়। শেখ হাসিনার জন্ম না হলে কখনো দেশ এতো সাফল্যের মুখ দেখতো না।শেখ হাসিনা মানেই বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্য। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টার মিডিয়েট গার্লস কলেজের সংসদের ভি পি ছিলেন।তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন।শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার আপোশ হীন মনোভাব, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিষ্ঠা, অবিচল, সংগ্রাম,ত্যাগ ও তিতিক্ষা তাঁকে নিজ দেশে ও বিশ্বব্যাপী করে তুলেছেন অনন্য নেত্রী। বাংলাদেশে তিনি হারানো গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্র্রক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছের।তিনি গণতন্ত্রের মানসকন্যা।তিনি মনে করেন ‘সবার উপর মানুষ সত্য ‘।
সংগ্রামে আন্দোলনে গৌরবগাথায় তাঁর বিচক্ষণতা তাঁর নেতৃত্ব তাঁর সাফল্য তুলনাহীন। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্যে উন্নয়ন তাঁর মূল লক্ষ্য। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালোকে বলার মতো স্পষ্টবাদীতায় তিনি অর্জন করেছেন দেশের মানুষের হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসা আর বিদেশ থেকে সম্মান আর উপাধি। এক সময় বাংলাদেশকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দেখা হতো।আর যারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিল আজ তারা-ই বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আর এই সব সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কারণেই। শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের অনুকরণীয় নাম।জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশন তার উজ্জ্বল প্রমাণ।তিনি শুধু এখন বাংলাদেশের নেতা নন,তিনি সারা বিশ্বের নেতায় পরিণত হয়েছেন।পিতা মুজিবের সব গুণ-ই শেখ হাসিনার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। তাই তিনি জাতি রাষ্ট্রের ভাগ্যের নিয়ামক। বাংলাদেশের মানুষের তথা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের আইডল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।বিশ্ব যেখানে সন্ত্রাস, জঙ্গি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে তিনি সফলতার শীর্ষে অবস্থান করে আছেন।মানবতা যেখানে বিপন্ন সেখানে তিনিই মাদার অব হিউম্যান্যানিটি।বিশ্ব যখন স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত,রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, তখনই তিনি আরও বেশি সাকসেস।বিশ্ব মোড়লরা যখন যুদ্ধের ডামাডোলে একজন আরেক জনকে দোষারোপ করে যাচ্ছে, কোল্ড ওয়ার চালিয়ে যাচ্ছে। তখন শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীকে শান্তির পতাকাতলে আসার উদাত্ত আহ্বান করে, প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন”কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়,সকলের প্রতি বন্ধুত্ব এই নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সাথে,বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র্রসমূহের সাথে আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী “। আর শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতির উপর জোর দিয়ে রাষ্ট্র্র পরিচালনা করে আসছেন। শেখ হাসিনা (হাসুমনি)তাঁর জন্মের কারণেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবে রুপ নিয়েছে। শেখ হাসিনার কারণেই দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশের দ্বারপ্রান্তে। তাঁর নেতৃত্ব গুণে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় থেকে শুরু করে সব সূচকে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। যত দিন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতে দেশ ততদিন নিরাপদ থাকবে পিতা মুজিবের স্বপ্নের বাংলাদেশ।শেখ মানেই বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নের প্রতীক।শেখ হাসিনার দর্শন পৃথিবী সাজাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে অধিষ্ঠিত করে কিছুটা হলেও শেখ হাসিনার অবদানের ঋণ শোধ করতে পারে নোবেল কমিটি। বঙ্গবন্ধু বলেন” নেতৃত্ব আসে সংগ্রামের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কেউ আকস্মিকভাবে একদিনে নেতা হতে পারে না”। শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে আজ বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সুতরাং সমমর্যাদা এবং বিশ্বশান্তিতে বিশ্বাসী। সারা দুনিয়ার সকল শোষিত নির্যাতিত,দুঃখী মানুষের ন্যায়বিচার ও শান্তি নিশ্চিত নতুন শঙ্কা মুক্ত উন্নত বিশ্ব গঠন-ই তাঁর অভিষ্ঠ লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু কন্যা, বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে সুস্বাস্থ্যে ও দীর্ঘায়ু কামনায়।