বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটিতে রোবটিক্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জাপান-বাংলাদেশ রোবটিক্স অ্যান্ড অ্যাডভান্স টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের (জেবিআরএটিআরসি) সহযোগীতায় বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (বিজিসিটিইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রোবটিক্স ক্লাবের আয়োজনে আইওটি, কোয়াড-কপটার অ্যান্ড রোবটিক্স শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসাবে সেশন নিয়েছেন- জাপান-বাংলাদেশ রোবটিক্স অ্যান্ড অ্যাডভান্স টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার (জেবিআরএটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার ফারহান ফেরদৌস।

তিনি জাপান বাংলাদেশ রোবটিক্সের কার্যক্রম ও Walking robotics stable generation নিয়ে আলোচনা করেন। জেবিআরএটিআরসির অ্যাডভাইজর ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফকির মাশুক আলমগীর, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন এবং জেবিআরএটিআরসির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও রোবো টেক ভেলির সিইও এ.এস.এম আহসানুল এস আকিব টেকনিক্যাল টিমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আমিনুর রহমান রনি, মিসুজুর রহমান পারভেজ ও সাইফুল ইসলাম শান্ত।

এছাড়াও কর্মশালায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসাইন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী বলেন, পৃথিবী এখন প্রযুক্তি নির্ভর। শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধনের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যে দেশ প্রযুক্তিগত ভাবে এগিয়ে থাকবে ওই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। যুগের প্রয়োজনে রোবটই মানুষের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কাজ করবে যা বর্তমান বিশ্বে অনেক উন্নত দেশে শুরু হয়েছে। তাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ও এই বিষয়ে মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামে প্রথম বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটিতে জেবিআরএটিআরসি রোবটিক্স কর্মশালা করছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে শিল্পকারখানায় কর্মোদ্যমে জিনিস উৎপাদন করতে হলে, প্রোডাকশন বাড়াতে হলে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অটোমেশন করতে হবে। সার্ভিস গুলো অটোম্যাট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রোবটিক্স প্রয়োজন।

এছাড়াও রোবটিক্স প্রযুক্তি এমন একটি প্রযুক্তি যা আজ বিজ্ঞান গবেষণা, চিকিৎসা, মহাকাশ এবং শিল্প সেক্টরে ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী শতাব্দী হবে অনেকটা রোবট নির্ভর। বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

তাই রোবট তৈরির ক্ষেত্রে এবং তা যাতে বাণিজ্যিকভাবে তৈরির সফলতা আমরা অর্জন করতে পারি সেটাই আমরা আমাদের কর্মশালায় কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি। যাতে তারা প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। রোবটিক্সে নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে পারবে।

বক্তারা এই কর্মশালার সকল উদ্যোক্তাদের, বিশেষত জাপান-বাংলাদেশ রোবটিক্স অ্যান্ড অ্যাডভান্স টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারকে(জেবিআরএটিআরসি) ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, সিএসই বিভাগ, রোবটিক্স ক্লাবকে ধন্যবাদ দেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের প্রোগ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স বিষয়ে অনেক কিছু শিখতে পারবে।

এ কর্মশালায় একটি বাংলায় কথা বলা রোবট ডিসপ্লে, ডেমনস্ট্রেশন সহ রোবটিক্স সংক্রান্ত সকল বিষয় সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বৃহৎ ধারণা দেওয়া হয়েছে। কর্মশালা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা রিসোর্স প্যানেলকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে তাদের অজানা বিষয়গুলো জেনে নিয়েছে।

এছাড়া প্রোগ্রামে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির পৃষ্ঠপোষকতায় বিজিসিটিইউবি রোবটিক্স ক্লাবের শিক্ষার্থীদের তৈরিকৃত প্রজেক্ট চট্টগ্রামে প্রথম পরিবেশ বান্ধব স্মার্ট ডাস্টবিনের উদ্বোধন করেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী।

স্মার্ট ডাস্টবিন প্রজেক্টটি তৈরিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো.জিয়াদ হোসাইন, ইমতিয়াজ হোসাইন, হোসাইন বিন শহীদ ও আকিব উদ্দীন নয়ন। উক্ত কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কর্মশালা শেষে তাদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।