গণঅধিকার পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের ব্যাগ থেকে নগদ ৮ লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ৫৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের বিরুদ্ধে। এমনকি ব্যাটলিয়ন ক্যাম্পে এই নেতাকে ডেকে ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেয়ার অভিযোগ ৫৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা আলমগীর কবির।
শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি গত দিন একটি জমি বিক্রি করেছিলাম। সেই জমি বিক্রি করার টাকা টি নিয়ে ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ৪ জন বিজিবি সদস্য আমার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় তারা ব্যাগে কি আছে জানতে চেয়ে, সেটি আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়। এরপরই বিজিবি সদস্যরা ব্যাগ নিয়ে দুটি মটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, তাদের পেছন পেছন যাওয়ার পর নাগাল না পেয়ে আমি ফিরে আসি। এসেই ঘটনার দুই মিনিট পর ফেসবুক লাইভে আসি। তিনি বলেন, আমার ব্যাগে দুটি মোবাইল ছিল ও ব্যাগে ৮ লাখ টাকা ছিল। এ ঘটনায় পরবর্তীতে শিবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, ন্যায়বিচার পাব।
গণঅধিকার পরিষদ নেতা আলমগীর আরো বলেন, ঘটনার দিন ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক ক্যাম্পে ডেকে ঘটনার দিন করা ফেসবুক লাইভ ডিলেট করতে বলে এমনকি ৮ লাখ টাকার অভিযোগ না তোলি সেই জন্য আমাকে ২৪টি ভারতীয় মোবাইল দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এছাড়াও আমার সন্তানকে বিজিবি পরিচালিত স্কুলে বিনামূল্যে ১০ বছর পড়ার সুযোগ দেয়ার কথা জানায়। কিন্তু আমি তাতে রাজি না হয়ে টাকার দাবি করলে আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া।
তিনি আরও বলেন, ডিবি হারুনের মতো নির্যাতন ও মামলা দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে পারে পারে। তাই আমি রাষ্ট্রের কাছে আমার ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।
আলমগীর কবির আরো বলেন, সিও গোলাম কিবরিয়া তিনি এখানে যোগদানের পর থেকেই অশান্তিতে রয়েছেন সীমান্তের বাসিন্দারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলামিন আলী বলেন, বিজিবির এই অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। বারবার বিজিবির সিও ও ক্যাম্প কমান্ডারকে অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি। এনিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ দিব। প্রয়োজনে দূর্নীতিবাজ বিজিবি কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি, আলমগীর কবির শিফতির স্ত্রী, পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া মুঠোফোনে তিনি জানান, আলমগীর কবিরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিক্তিহীন। বিজিবির মান ক্ষুন্ন করতেই উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিয়মিত তল্লাসী কার্যক্রমের সময় বিজিবি সদস্যদের দেখে ব্যাগ ফেলেই সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে জনসম্মুখে তার ব্যাগ তল্লাশী করে ২৪টি অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং তা শিবগঞ্জ থানায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর হস্তান্তর করা হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের দাবি, সীমান্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
Leave a Reply