বিএনপি নেতাদের এখন আইন শেখাতে হবে: আইনমন্ত্রী

21

বিচারিক বিষয়ে বিএপির নেতারা ভ্রান্তিমূলক ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এখন মনে হচ্ছে ওনাদের মনে হয় আইন শেখাতে হবে।

বুধবার (১০ জুলাই) রাজধানীর নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্মরত জেলা ও দায়রা জজদের নতুন গাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন তিনি।

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় যে রায় দেওয়া হয়েছে- এ নিয়ে বিএনপি বলে আসছে আইন মন্ত্রণালয় রায় লিখে দিয়েছে ও  আদালত তা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর অভিমত কী জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় ওনাদের সময় ওনারা এ ধরনের রায় লিখে দিতেন। সে অভিজ্ঞতা থেকে এসব বলছেন। আমি স্পস্টভাবে বলতে পারি বিচার বিভাগকে আমরা কোনোভাবেই চাপ দেই না। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন।

তিনি বলেন, ঈশ্বরদীর ঘটনায় বিএনপি বলছে কেউ খুন হয়নি অথচ নয়জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। ওনাদের আমি শুধু মনে করিয়ে দেবো যে আইনে রয়েছে কাউকে খুন হতে হয় না। যদি খুন হবে এটা জেনে বোমা ছোড়ে তাহলেই তাকে ফাঁসি দেওয়া যায়। আইনের মধ্যেই সেটা রয়েছে। এখন আমাদের ওনাদের আইন শেখাতে হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলার রায়ে নয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

‘একই মামলায় ২৫ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ৩ জুলাই স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী এ আদেশ দেন।

আনিসুল হক বলেন, বিএনপি বলে বেড়াচ্ছে খালেদা জিয়া জামিনযোগ্য অপরাধে রয়েছেন তারপরও তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। সবাই জানেন এতিমের টাকা চুরি করার জন্য খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালত পাঁচ বছর জেল দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট সে রায়ের আপিলে আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছরের জেল দিয়েছেন। এটা জামিনযোগ অপরাধ নয়। আপিল করে তার জেল বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এতিমখানার টাকা আত্মসাতের জন্য আবার বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের জেল দিয়েছেন। সেটাও জামিনযোগ্য নয়। তারপরও বিএনপি সব সময় ভ্রান্তিমূলক তথ্য জানগণকে দিচ্ছে। তারা যে মিথ্যার উপর রয়েছেন এগুলো সেটারই প্রমাণ।