বাড়িতে মেহমান এলে করা উচিত যে ৫টি কাজ

10

বাসায় যেকোন সময় মেহমান চলে আসাটা আমাদের জন্য খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। আর এখন তো চলছে ঈদের প্রস্তুতি। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনে হুট করে চলে আসা এই মেহমানকে আপ্যায়ন সঠিকভাবে করাটা সকলের জন্যই বড় একটি দক্ষতা। আমরা নিজেদের বাসায় যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকি ঠিক ততোটাই অস্বস্তিতে ভুগি যখন অন্যের বাসায় বেড়াতে যাই। অনেকে আছেন যারা বাসায় মেহমান আসাকে ঝামেলার বিষয় মনে করেন। কিন্তু এই ঝামেলার কাজটি এখনকার ব্যস্ত সময়ে একটি আশীর্বাদ। একবার ভাবুন তো, আমরা কয়জনই বা সময় করে কারও বাসায় বেড়াতে যাই? তাই যারা আপনার জন্য ব্যস্ততা থেকে কিছু সময় বরাদ্দ রেখেছেন তাদেরকে একটি সুন্দর অভিজ্ঞতা উপহার করা আপনারই দায়িত্ব। চলুন তবে জেনে নেই, বাড়িতে মেহমান এলে যে ৫ টি কাজ করবেন।

খাবারের ব্যবস্থা করুন

খাবার আমরা কে না ভালবাসি! তাই বেড়াতে আসা মেহমানদের প্রথমেই জিজ্ঞেস করে নিন তারা কেমন খাবার খেতে পছন্দ করেন। কোন খাবারে তাদের এলার্জি কিংবা মানা রয়েছে কিনা। চা কফি অফার করার সময় অবশ্যই জিজ্ঞেস করতে ভুলবেন না চিনির পরিমাণ! এখন অনেকেই আমরা চিনি এড়িয়ে চলি। এমনকি পানি অফার করার আগেও জিজ্ঞেস করতে ভুলবেন না ঠাণ্ডা নাকি গরম? সবসময় আমাদের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার থাকে না তারমধ্যে মেহমান চলে আসতে পারে যেকোন সময়। আর মেহমান বাসায় চলে এসেছে কিন্তু ভালো কিছু পরিবেশন করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় যদি পড়তে না চান তবে বাসায় সবসময় হালকা স্ন্যাক্স রেখে দিন। চাইলে, কোমল পানীয় এবং ফলমূল রেখে দিতে পারেন। তবে এখন এই সব সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য রয়েছে অনেক অনলাইন ফুড ডেলিভারি সার্ভিস। যেগুলো ব্যবহার করে ঘরে বসেই কম সময়ে পছন্দের খাবার আনিয়ে নিতে পারবেন! আপনার মেহমান যদি ছুটিতে ঘুরতে এসে থাকে তবে তাদের নিয়ে বাইরে কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা করুন। তাদের সময়কে আনন্দদায়ক করার দায়িত্ব কিন্তু আপনারই।

বাথরুম পরিষ্কার রাখুন

বাথরুম সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। যেহেতু আমরা সব সময় আগাম বার্তা নাও পেতে পারি তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকুন। খেয়াল করুন বাথরুমের নিয়মিত ব্যবহার হওয়া জিনিষপত্র যেমন, টিস্যু, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ ইত্যাদি ঠিক মত আছে কিনা। অবশ্যই খেয়াল করতে ভুলবেন না বাথরুমের তোয়ালেটি পরিষ্কার আছে কিনা! সম্ভবত মেহমানরা নিজেই এসব বহন করবেন তবুও নিজেরা তৈরি থাকাটা জরুরী। বাথরুম ঘনঘন পরিষ্কার করতে যেন ভুলবেন না। আর বলে রাখা ভালো, অবশ্যই বাড়তি টুথব্রাশ রেখে দিবেন। বেশির ভাগ মানুষ এটি ব্যাগে তুলতেই ভুলে যায়।

মেহমানদের জিনিষপত্র রাখার ব্যবস্থা করুন

মেহমানদের বয়ে আনা কাপড় কিংবা জিনিষপত্র রাখার জায়গা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখুন। এই ধরুন, আলমারির একটি তাক কিংবা ড্রয়ার খালি করুন কিংবা হ্যাঙ্গার ঝুলিয়ে নিতে পারেন। কেননা সুটকেসে কাপড় বেশিক্ষণ রেখে দিলে তা বাজে ধরণের একটা গন্ধ সৃষ্টি করে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে জায়গা তৈরি করুন যাতে করে তারা তাদের প্রসাধনীগুলো টেবিলে রাখতে পারে।

বাসা পরিষ্কার রাখুন

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এমন একটি বিষয় তা সহজেই মানুষের চোখে পড়ে! বাড়িতে মেহমান এলে বাসা সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। ঘরের আনাচে কানাচে ভালো মত পরিষ্কার করুন। পানিতে সাবান মিশিয়ে মেঝে একদফা মুছে নিন,এরপর স্যাভলন মিশিয়ে দ্বিতীয় দফায় মুছে ফেললে ধুলাময়লাসহ সবরকম জীবাণু সহজেই দূর হয়ে যাবে। রান্নাঘর পরিষ্কার করতে বিশেষ মনোযোগ দিতে ভুলবেন না। কেননা, বলতে গেলে আমাদের সুস্থ থাকা সম্পূর্ণই নির্ভর করে রান্নাঘরের ওপর! ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর এক সপ্তাহ পর পর ধুয়ে ইস্ত্রি করে ব্যবহার করুন। বাসায় সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে সুবাস ছড়াতে ব্যবহার করতে পারেন সুগন্ধি মোমবাতি। যেমন ঘরের সৌন্দর্য বাড়াবে তেমনি মুখর করে রাখবে সুবাসে। কিছুটা ডেকোরও পরিবর্তন করতে পারেন। ফুল কিংবা ছোট গাছ লিভিং রুমে রেখে দিয়ে ঘরের পরিবেশ বদলাতে পারেন।

মেহমানদের ব্যক্তিগত স্পেস দিন

বেড়াতে আসা মেহমানদের সময় আনন্দে কাটছে কিনা তা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব এবং এই কাজটি অনেক স্ট্রেসের হতে পারে। কিন্তু এই স্ট্রেস থেকে মুক্তির জন্য তাদের বারবার বিরক্ত করাটা ঠিক হবে না। কখন কি করবেন তার একটা পরিকল্পনা আপনি অবশ্যই করতে পারেন কিন্তু তাদের ওপর সেই পরিকল্পনা চাপিয়ে দিতে পারেন না। তাদের সুবিধা এবং ইচ্ছার কথা মাথায় রেখে যেকোন কিছু পরিকল্পনা করাই শ্রেয়। তারা কি করতে পছন্দ করেন তা শুনে বাকী অব কিছু সাজিয়ে নিন। বাড়িতে মেহমান এলে তাদের সবকিছুতে অবশ্যই একটু স্পেস দিন।