বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি আসন কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা হরতাল ও সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়েছে আশপাশের জেলাগুলোর উপরেও। এর জেরে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই পিরোজপুর থেকে ঢাকাসহ দেশের দূরপাল্লার সকল রুটে পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। টার্মিনাল ও মহাসড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, শতাধিক যাত্রী টার্মিনালে অপেক্ষা করলেও কোনো পরিবহন ছাড়ছে না। কেউ কেউ অফিস কিংবা জরুরি প্রয়োজনে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নিশ্চিত কোনো তথ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। পিরোজপুর-খুলনা মহাসড়ক এবং পিরোজপুর-নাজিরপুর-চিতলমারী-বাগেরহাট রুটে গাছের গুঁড়ি ও ব্যারিকেড ফেলে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। হরতালের কারণে জেলার প্রায় সব দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। টার্মিনালে অবস্থানরত পরিবহন কাউন্টার কর্মীরা জানিয়েছেন, হরতালের কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সকাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আগাম টিকিট কাটা যাত্রীদের টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কয়েকজন। এদিকে সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকও বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মোংলা বন্দর ও আশপাশের রফতানি-আমদানি কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। একজন অপেক্ষমাণ যাত্রী বলেন, “সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি, অফিসে জরুরি কাজ ছিল। কেউ ঠিক করে বলতে পারছেন না কখন বাস ছাড়বে।” আরেকজন নারী যাত্রী জানান, “দুই সন্তানকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেছি, শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত না হয়ে বাড়ি ফিরছি। পিরোজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গাজী অহিদুজ্জামান মাসুম বলেন,
“বাগেরহাটে হরতালের কারণে নিরাপত্তা বিবেচনায় পিরোজপুর থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস চলাচল করেনি। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পিরোজপুরে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply