বহু প্রতিভার অধিকারী প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার অধ্যাপক মোখতার আহমাদ

তিনি মূলত একজন শিক্ষাবিদ ও টিভি-আলোচক। তিনি কোন প্রথাগত আলেম নন। ট্রেডিশনাল স্কলারশিপের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান সচেতন একজন সুবক্তাও বটে। জন্ম: ১৯৭৬ সালের ০৭ই ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ধানুয়া নামক গ্রামে তার জন্ম।

তার পিতা মো. আব্দুর রহমান ও মাতা ফিরোজা বেগম। শিক্ষাজীবন: ১৯৯০ সালে হানসা ডিগ্রী মাদরাসা থেকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তিনি মাধ্যমিক পাশ করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন ১৯১৯ সালে। ১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক বি.এ. (অনার্স), ও ১৯৯৭ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবন: শিক্ষক হিসেবে জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করেছেন মোখতার আহমাদ। লেকচারার হিসেবে তার খ্যাতি অসাধারণ। শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন ১৯৯৭ সালে রাজধানী ঢাকার লালবাগে হযরতবাগ আলিম মাদরাসায়। তিন বছরেরও অধিক সময় সেখানে আরবি ভাষার প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্হাপনা ও কারিকুলাম প্রসঙ্গে তিনি ছিলেন বরাবরই সচেতন একজন ব্যক্তি। এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ২০০০ সনে ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে তার হাতেই প্রতিষ্ঠা পায় দেশের প্রথম সারির ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা ক্যাডেট মাদরাসা’। টানা দুই বছরকাল এ প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপ্যাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি । ২০০০ সালে অধ্যাপক মোখতার আহমাদ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগাং এর ঢাকা ক্যাম্পাসে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৫ সনে সহকারী অধ্যাপক ও ২০১০ সনে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উন্নীত হন এবং ধারাবাহিকভাবে ২০১৭ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন।

এছাড়াও দীর্ঘদিন তিনি আইআইইউসি ঢাকা ক্যাম্পাসের প্রোক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এ অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। অনতিকাল পরে গাজীপুর বোর্ড বাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে যোগদান করেন তিনি। বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ও ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন অধ্যাপক মোখতার আহমদ। কর্তব্যনিষ্ঠা ও কর্মোদ্দীপনার প্রকৃষ্ট উদহারণ অধ্যাপক মোখতার আহমাদ। তথ্য-প্রযুক্তির এই সময়ে স্বেচ্ছাচারী ব্যবহারের বিপরীতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি ২০২১ সালে তথ্য-প্রযুক্তিকে যথাযথ ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মসহ সকল স্তরের মানুষের কাছে ইসলামি শিক্ষাকে পৌঁছে দিতে প্রফেসর মোখতার আহমাদ প্রতিষ্ঠা করেন ‘তারবিয়াহ এডুকেশন নেটওয়ার্ক’। বিশ্বব্যাপী অনলাইনভিত্তিক নানামূখী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এখানে রয়েছে সকল শ্রেণির মানুষের জন্য হিফজুল কুরআন কোর্সসহ কিশোরদের জন্য আলিমিয়্যাহ প্রোগ্রাম ও যুবকদের জন্য ইসলামিক স্টাডিজের উপর বিশেষ ডিপ্লোমা কোর্স।

এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য কর্মসমূহের অন্যতম হচ্ছে- আল-কুরআনকে সর্বসাধারণের কাছে বোধগম্য করে উপস্থাপন করা। কুরআনের ভাষাকে মানুষের জন্য সহজ ও সাবলীল করে তুলতে তাঁর গবেষণালব্ধ কোর্স ‘কুরআনিক অ্যারাবিক গ্রামার’ ইতোমধ্যেই সমাদৃত হয়েছে সকলের মাঝে। অনবদ্য এ কোর্সের মাধ্যমে দুই যুগ ধরে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ কুরআনের ভাষা আরবিকে আপন করে নিতে পারছে। একজন টিভি উপস্থাপক ও আলোচক হিসেবে তার রয়েছে বেশ সুখ্যাতি। দেশের প্রথম সারির স্যাটেলাইট টেলিভিশনের ইসলামিক অনুষ্ঠানসমূহে মোখতার আহমাদ একজন অতি পরিচিত ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে ইসলামিক টিভি প্রচারিত ‘শব্দার্থে আল-কুরআন’ প্রোগ্রামটি সর্বসাধারণের মাঝে বেশ নন্দিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বমলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়াও তার পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় প্রতি বছর মাহে রামাদানে অনুষ্ঠিত ‘পবিত্র কুরআনের আলো’ অনুষ্ঠানটি আলো ছড়াচ্ছে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের আনাচে কানাচে। ইসলামি অঙ্গনে টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় তিনি পথিকৃৎ ও অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অধ্যাপক মোখতার আহমাদের সমাদৃতি সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত। জুমার খুতবা প্রদানে নিজস্ব বাচনভঙ্গি ও বিশেষ স্টাইল তাকে অন্যদের ভীড়ে দিয়েছে এক ভিন্নতর বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘদিন তিনি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজির কেন্দ্রীয় মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও রাজধানীর উল্লেখযোগ্য মসজিদগুলোতে দেশ ধর্ম ও জাতির কল্যাণ কামনায় তিনি খুতবা দিয়ে আসছেন দুই দশক ধরে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে নিয়মিত লিখে আসছেন প্রফেসর মোখতার আহমাদ। দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকায় ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তার অসংখ্য গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ। লেখনীতে নিজের অসাধারণ শক্তিমত্তা বলে জায়গা করে নিয়েছেন দেশের বোদ্ধামহলে। কর্মমুখর ও সদা হাস্যোজ্জ্বল অধ্যাপক মোখতার আহমাদ দেশের তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।