বরিশালে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ নভেম্বর সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সরকার, ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কারিগরী ও আর্থিক সহযোগীতায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগীতায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং। সভায় জানানো হয় যে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদে গত ফেব্রুয়ারী ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মোট ৪০১৮টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে নিস্পত্তি হয়েছে ৯০.৬২ ভাগ যার মামলা সংখ্যা ৩৬৪১টি। মামলার নিস্পত্তির পরে বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৫৯৮টি যার শতকরা হার ৯৮%। মোট মামালার মধ্যে দেওয়ানী মামলা ১৯৮৭টি এবং ফৌজদারি মামলা ২০৩১টি। উচ্চ আদালত থেকে গ্রাম আদালতে মামলা প্রেরন করা হয়েছে ২২৫টি। নারী আবেদনকারী মামলা ৯২৪টি যার শতকরা হার ২৩%। আবেদনকারীদের মামলার নিস্পত্তির পরে ৯ কোটি ৫৫ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৩০ টাকা ক্ষতিপূরন প্রদান করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম বিল্লাহ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ, ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালক, সহকারী পরিচালক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সিনিয়র তথ্য অফিসার, এনজিও নেটওয়ার্কের সভাপতি, সরকারী বেসরকারি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ ৩৫ জন। গ্রাম আদালত বিষয়ক অগ্রগতি উপস্থাপন করেন প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক কমল ব্যানার্জী। এছাড়াও সভায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার পক্ষথেকে গত ৬ মাসে গ্রাম আদালতের প্রচারনা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন এনজিও নেটওয়ার্কের সভাপতি কাজী জাহাঙ্গীর কবির। সভায় বক্তাগণ বলেন গ্রাম আদালত আইন হল একটি গুরুত্বপূর্ন আইন, এর সুষ্ঠুবাস্তবায়নে গ্রামীন জনগোষ্ঠী অনেক হয়রানী থেকে মুক্তি পেতে পারে। তারা মনে করেন যারা গ্রামীন জনগোষ্ঠীর সাথে নিবিরভাবে কাজ করে সে সকল সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করলে এবং প্রচার কার্যক্রমে সঠিকভাবে অংশ গ্রহণ করলে সাধারন জনগণ গ্রাম আদালত সম্পর্কে সঠিক ধারনা পাবে এবং জনগন সঠিক বিচার পেতে গ্রাম আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য যাবে। সকলের আস্থা অর্জন করতে হলে সকলকে গ্রাম আদালতের প্রচারনা কার্যকর অংশগ্রহণ করতে হবে। সভাপতির বক্তৃতায় উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), স্থানীয় সরকার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানান যেন তারা তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় গ্রাম আদালত বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন। তিনি আরো বলেন স্থানীয় পর্যায়ে সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ সকল পক্ষ একযোগে কাজ করলে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ হয়রানি ছাড়াই ন্যায়বিচার লাভ করতে পারবে। সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের ক্ষেত্রে প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা একমত হন যে তাদের চলমান কার্যক্রমের সঙ্গে গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রচারণা যুক্ত করা হবে। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে প্রচার কার্যক্রমের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
Leave a Reply