প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরিশাল জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে চতুর্থ পর্যায়ের ৮৭৪টি গৃহসহ জমি হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন। ‘একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ এ লক্ষ্যে ৯ আগস্ট বুধবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে সারাদেশে একযোগে ৪র্থ পর্যায়ের ২য় ধাপে জমির দলিল ও নির্মাণকৃত গৃহসমূহের চাবি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮৭৪টি পরিবারের জন্য নির্মিতব্য গৃহ হতে কবুলিয়তসহ গৃহ উপকারভোগী পরিবারের নিকট পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে। বরিশাল জেলার উপজেলা সমূহের গৃহ হচ্ছে বরিশাল সদরে ২৫৬টি, মেহেন্দিগঞ্জে ১৫০টি, উজিরপুরে ২০টি, বানারীপাড়ায় ১৬৩টি, মুলাদীতে ২০টি, বাবুগঞ্জে ৬২টি, হিজলায় ১৬৮টি, আগৈলঝাড়ায় ৩৫টি। অসমাপ্ত বাকী গৃহ ও কবুলিয়ত সম্পাদনের কাজ দ্রুত সমাপ্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য দেশের একজন মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে সারা দেশে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮৫১টি পরিবারকে ২ শতাংশ করে খাস জমিতে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। ৪র্থ পর্যায়ে অবশিষ্ট ২২ হাজার ১০১টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে। এতে আরো ১২টি জেলার সব উপজেলাসহ সারা দেশের ১২৩টি উপজেলা গৃহহীন-ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে। আর দেশের ২১টি জেলার সব উপজেলাসহ ৩৩৪টি উপজেলার সব ভূমিহীন-গৃহহীন পুনর্বাসিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় বরিশালের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকাল ১০টায় ৪৯২টি উপজেলায় একযোগে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে এই জমি ও গৃহ হস্তান্তর কাজের উদ্বোধন করেছেন। ২ শতাংশ খাস জমিসহ ২ কক্ষ বিশিষ্ট প্রত্যেকটি ঘরের মোট আয়তন ২৯৪ বর্গফুট। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাসস্থান নিশ্চিতকল্পে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে জমিসহ এই ঘর প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মানে ব্যয় হয়েছে ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। ঘরের পাশে সবজি চাষ সহ আয় বর্ধক নানা সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বরিশাল জেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের সাথে সাথে তার পক্ষ থেকে বরিশাল সদর উপজেলায় জমি এবং গৃহ হস্তান্তর করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী ও জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ শহীদুল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম , সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু প্রমূখ।
Leave a Reply