1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
বড়পুকুরিয়ায় খনি কর্তৃপক্ষের প্রবেশ নিষেধে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর লাল পতাকা কর্মসূচি - দৈনিক আমার সময়

বড়পুকুরিয়ায় খনি কর্তৃপক্ষের প্রবেশ নিষেধে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর লাল পতাকা কর্মসূচি

অমর গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূগর্ভে কয়লা উত্তোলনের ফলে খনি সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার কারণে বড়পুকুরিয়া এলাকায় খনি কর্তৃপক্ষের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে জমিতে লাল টানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আজ রবিবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে ক্ষতিগ্রস্থ জমি অধিগ্রহণ না করা পর্যন্ত কয়লাখনি কর্তৃপক্ষের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে কয়লাখনির পূর্ব পার্শ্বে হামিদপুর ইউনিয়নের চৌহাটি ও বাঁশপুকুর কাজিপাড়ার মধ্যবর্তী জমিতে এই লাল পাতাকা টানানো হয়েছে।

এলাকার কৃষি ও বসতবাড়ী রক্ষা কমিটি এবং জীবন বসতভিটা রক্ষা কমিটি যৌথ উদ্যোগে লাল পাতাকা টানিয়ে খনি কর্তৃপক্ষের অবাধ প্রবেশ নিষেধের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক’শ বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষ লাল পতাকা হাতে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

কৃষি ও বসতবাড়ী রক্ষা কমিটির আহŸায়ক মাহমুদুন্নবী সোহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা এসএম নুরুজ্জামান জামান, কৃষি ও বসতবাড়ী রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব সালমান মাহমুদ, কমিটির সহ-সভাপতি মাহামুদুন্নবী মিলন, জীবন ও বসতভিটা রক্ষা কমিটির অর্থ উপদেষ্টা আতাউর রহমান, তুহিন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, খনির ভূগর্ভে কয়লা উত্তোলনের জন্য ডিনামাইট বিষ্ফোরণের জন্য এলাকার ঘরবাড়ীতে ব্যাপক আকারে ফাঁটল ধরার সঙ্গে সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার টিউবওয়েল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ক্ষতিপূরণ নেওয়ার আশ্বাসের নামে খনি কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারনা করছেন। একারণে এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের জমিতে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে খনি কর্তৃপক্ষ প্রবেশ করলে এরজন্য কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তার জন্য খনি কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবেন।

শেষে খনি সংলগ্ন চৌহাটি ও বাঁশপুকুর গ্রামের বিস্তৃর্ণ অনধিগ্রহণকৃত জমিতে লাল পাতাকা টানিয়ে খনি কর্তৃপক্ষের সব ধরনের প্রবেশ নিষেধ ঘোষণা করেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, ক্ষতিপূরণের ৫দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী। পাঁচদফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ভূগর্ভে বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ীর ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেকার ছেলেমেয়েদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি প্রদান, সিআরএস ফান্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, ‘গ্রামবাসী কর্মসূচি দিয়েছে, তা আমরা শুনেছি। তাদের সমস্যাগুলো সার্ভে করার জন্য কমিটি করা হয়েছে। কমিটির লোকজন ওই সব এলাকায় গিয়ে সার্ভে করলে তারপর তাদের সমস্যাগুলোর বিষয়ে জানতে পারব এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু গ্রামবাসী যদি তাদের এলাকায় প্রবেশ করতে না দেয়, তবে কী করে আমরা সার্ভে করব এবং সমস্যাগুলো দেখব? জমি অধিগ্রহণ করতে হলেও আগে তা যাচাই করতে হবে, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com