‘প্লানেট ৫০-৫০’ অর্জনে নারীর ক্ষমতায় অপরিহার্য : স্পিকার

বৈশ্বিকভাবে লিঙ্গসমতা আনয়নের জন্য ‘প্লানেট ৫০-৫০’ অর্জনে নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, লিঙ্গসমতা অর্জনে ক্ষমতা-কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এক প্যানেল আলোচনা অংশ নিয়ে এ বক্তব্য রাখেন।

মঙ্গলবার সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘টেকসই বিশ্বের জন্য লিঙ্গসমতা ও নারী নেতৃত্ব’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত লিঙ্গসমতা বিষয়ক বৈশ্বিক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সভায় ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য লিঙ্গসমতা ও একীভূত সমাজ’ শীর্ষক ওই প্যানেল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ। সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)’র সভাপতি গ্যাব্রিয়েলা কুইভাস ব্যারন। দিনব্যাপী এই আলোচনা অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ও সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নারী ক্ষমতায়নের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নারী। স্পিকার, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং বর্তমান মন্ত্রী পরিষদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নারীরা রয়েছেন। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এছাড়া বর্তমান সংসদে ২৩জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, সামরিক বাহিনী, প্রশাসন, পুলিশ, আইন ও বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানসহ সকল ক্ষেত্রেই নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের নারীরা সুনামের সাথে কাজ করছেন। দেশে ৪০ লাখেরও বেশি নারী তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করছে। যা লিঙ্গসমতার উজ্জ্বল উদাহরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশে লিঙ্গসমতা অর্জন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি অতিদরিদ্র নারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টি, বিধবা ভাতা, প্রসূতি নারীদের ভাতা, পেশা উন্নয়ন ও তথ্য-প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধসহ যে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নারীরা প্রথাগত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই লিঙ্গসমতা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।