প্রকৌশলী জয়শ্রী দে ও হিসাব রক্ষক রফিককে বহিস্কারের দাবীতে কর্ণফুলী উপজেলায় মানববন্ধন

জাহাঙ্গীর আলম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলায় ঘুষ ছাড়া ফাইল না ছাড়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে ও হিসাব রক্ষক রফিকের বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে উপজেলা সাধারণ জনগণ পক্ষে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রীরা।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য জোবাইদা আকতার, জোসনা বেগম, নারগিস আকতার, নুর নাহার বেগম, চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য হালিমা আকতার।

বক্তারা বলেন, বানাজা বেগমের সুনামক্ষুন্ন করতে প্রশাসনের কিছু অসাধু লোক ষড়যন্ত্র করছে। যারা উনার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে এবং উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে ও এলজিইডি বিভাগের সহকারী হিসাব রক্ষক রফিকুল ইসলাম অশ্লীল ভাষায় কথা বলা ও ফাইল প্রসেসিং জন্য ঘুষ দাবী করায় তাদের বহিস্কারের দাবী জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য,রবিবার দুপুরে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের এলজিইডি অফিসে ঘুষ ছাড়া ফাইল না ছাড়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) হিসাব রক্ষকের সাথে মারধরের অভিযোগ হয়েছে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগমের বিরুদ্ধে ।
এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৯-২০ অর্থবছরের ঠিকাদারদের ১০ শতাংশ জামানত ফেরতের জন্য কয়েকটি ফাইল প্রক্রিয়াধীন ছিল। তার মধ্যে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম নিশির একটি ফাইল রয়েছে। তিনি অফিসে এসে ফাইলটির খবর জানতে চান। আমি উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে এলে ফাইল প্রসেসিং করে ছাড়া হবে বলে জানাই। এদিন উপজেলা প্রকৌশলীর শাশুড়ির অসুস্থতার কারণে তিনি অফিসে আসেননি। কিছুক্ষণ পরে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তার স্বামীসহ লোকজন নিয়ে অফিসে ঢুকে ফাইলটি কেন ছাড়া হয়নি এই বলে আমাকে মারধর ও অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুর করেন ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম সাংবাদিককে জানান, আমার নিশাম এন্টারপ্রাইজের করা কাজের ফাইল প্রসেসিং করে প্রকৌশল অফিসে পাঠালেও বিলে স্বাক্ষর হয়নি। অথচ ইউএনও অফিসের সিও’র অফিসে দেখলাম জাইমা এন্টারপ্রাইজের ৩টি ও থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজের ১টি ফাইলে স্বাক্ষর হয়েছে। এটা দেখে পরে রুমে গিয়ে আমার প্রসেসিং করা ফাইলে কেন স্বাক্ষর হয়নি জানতে চাইলে প্রকৌশলী অফিসের রফিক অনেক্ষণ পরে জানান অফিসের পার্সেন্টিস না দিলে ফাইল স্বাক্ষর হবে না। যাদের ফাইলের অফিসের পার্সেন্টিস দিছে তাদের ফাইল স্বাক্ষর হ্যেছে। বানাজা বেগম জানান,আমরা জনপ্রতিনিধিদের কেও ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর দিচ্ছে না ।এই ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।

ঘটনার বিষয়ে খবর নিয়ে জানা যায়,  মেম্বারদের করা কাজের দুটি পিআইসি ফাইলে স্বাক্ষর হওয়া নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসে তাদের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এক বছর পর পিআইসি প্রকল্পের জামানতের অর্থ ছাড় নিতে গেলে ওয়ার্ক এ্যাসিসটেন্ট মাঠের কাজ দেখে নোট দিলে পরে বিল হবে। এমন কথায় হিসাবরক্ষক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে সামান্য হাতাহাতি হয়।