প্রকল্প কাজের অগ্রগতি দেখতে আগামীকাল তিন দিনের সফরে চট্টগ্রাম আসছেন-রেলমন্ত্রী

রেলমন্ত্রী এড নূরুল ইসলাম সুজন

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শনে তিনদিন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফর করবেন রেলমন্ত্রী এড নূরুল ইসলাম সুজন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের মেঘা প্রকল্প দোহাজারী-কক্সবাজার ১০০ কিলোমিটার রেলপথ, আখাউড়া-লাকসাম ৭২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প ও আখাউড়া-আগরতলা ১৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরির্দশন করবেন রেলমন্ত্রী।

এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সরদার সাহাদাত আলী আমার সময়কে জানান, মন্ত্রী মহোদয় শুক্রবার ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাজার যাবেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল লাইনের অগ্রগতি পরিদর্শন করে তিনি শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আসবেন। পরদিন রবিবার বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন যোগে তিনি লাকসাম যাবেন এবং লাকসাম-আখাউড়া রেল লাইনের কাজের অগ্রগতি দেখবেন। সেখান থেকে আবার কসবা-গঙ্গাসাগর যাবেন এবং তিনি আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইন প্রকল্প কাজের আগ্রগতি দেখবেন। এরপর ঢাকায় ফিরে যাবেন। রেলওয়ের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৭ কোটি টাকা। আগরতলার নিশ্চিন্তপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণে কাজ করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকন ইন্টারন্যাশনাল। এর মধ্যে ভারতীয় অংশে অর্থাৎ ত্রিপুরায় ৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশে ১০ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ লাইন বসানো হবে।

এদিকে আখাউড়া রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ জানায়, বাংলাদেশের আখাউড়া গঙ্গাসাগর স্টেশন এলাকা থেকে সীমান্ত গ্রাম শিবনগর পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশের ১০ কিলোমিটারের কাজ অনেকটা শেষ হয়েছে। প্রকল্পে বাংলাদেশ অংশের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪০ কোটি টাকা এবং ভারতীয় অংশের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৭ কোটি টাকা। প্রকৌশল বিভাগ আরও জানায়, বাংলাদেশের দিকে প্রথম রেলস্টেশন হয়েছে আখাউড়া গঙ্গাসাগর। ভারতের নিশ্চিন্তপুর হচ্ছে সীমান্ত স্টেশন ও রেল ইয়ার্ড। আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ হয়েছে ডুয়েল গেজ। বাংলাদেশ অংশে ১০ কিলোমিটার মূল রেলপথ ছাড়াও ৪ দশমিক ২৫ কিলোমিটার লুপ লাইন রাখা হয়েছে। তিনটি মেজর ও ২০টি মাইনর ব্রিজ নির্মাণ হয়েছে। আখাউড়া, গঙ্গাসাগর ও নিশ্চিন্তপুর স্টেশনে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সিগনালিং ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়েছে। এই রেললাইন ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলে করোনার কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে ।