প্যারিসে শিক্ষককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক ৯

প্যারিসের শহরতলীতে প্রকাশ্য দিবালোকে এক শিক্ষককে গলা কেটে হত্যার ঘটনাকে ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জঁ ক্যাসটেক্স।হত্যাকান্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে শুক্রবার ৪৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষক স্যামুয়েল পেটিকে হত্যার পর ঘটনা স্থলের কাছেই পাহারায় থাকা পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত হয়। নিহত ওই হামলাকারী চেচেন বংশোদ্ভূত ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ বলে ফরাসী গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। হামলাকারীর নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশ তার ৪ আত্মীয়কে আটক করে, এদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। পরে আরও ৫ জনকে আটক করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় হামলাকারীকে কেউ সাহায্য করেছিল কিনা, তা বের করতে এ আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হ”েছ বলে শনিবার পুলিশ জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পেটি তার ক্লাসরুমে নবী মোহাম্মদের ব্যাঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন বলে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। ফ্রান্সে গত কয়েকবছর ধরে জঙ্গিরা দফায় দফায় সহিংস হামলা চালিয়ে আসছে। গত মাসেই ফ্রান্সের রম্য ম্যাগাজিন শার্লি এবদুর পুরনো কার্যালয়ের কাছে দুই সাংবাদিক ছুরিকাহত হয়েছে। বিতর্কিত কার্টুন ছাপার জেরে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি প্যারিসে শার্লি এবদু কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা করে উগ্রপন্থি মুসলিম দুই ভাই। মারা গিয়েছিল ফ্রান্সের বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট-সহ ১২ জন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ক্যাসটেক্স স্কুল বলেছেন, শিক্ষককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ইসলামি সন্ত্রাসবাদীদের হামলার ছাপ বহন করছে। ফ্রান্স সরকার এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। “আমার ক্রোধ আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। এই নিকৃষ্ট হামলার লক্ষ্যই ছিল সেকুলারিজম, যা ফরাসী প্রজাতন্ত্রের মেরুদন্ড” বলেছেন ক্যাসটেক্স।