পাল্টে যাওয়া কোতোয়ালী থানার নেপথ্যের নায়ক ওসি মহসীন

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধি; চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানা নোংরা, স্যাতস্যাতে   পরিবেশ আর দুর্গন্ধে পথচলা ছিল দায়।
পথচারীদের মুখে থাকতো রুমাল আঁটা। সন্ধ্যার পরে ভূতুড়ে হয়ে উঠতো আশপাশের রাস্তা, হাঁটাচলায়ও অবলম্বন করতে হতো বিশেষ সাবধানতা।
এমন দৃশ্য ছিল চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত কোতোয়ালী থানার। কিন্তু একজন ওসির যোগদানের পর থেকেই পাল্টেগেছে দৃশ্যপট।   থানায় সেবাদাতা ও গ্রহীতার মানভিত্তিক   উন্নয়নের   জন্য থানার পরিবেশকে সকলের গ্রহণযোগ্য করে   তোলা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি   থানাটি সেজেছে একটি নির্মল পরিবেশে।
কোতোয়ালী থানার পুরাতন দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে থানাটির একজন ভালো পুলিশ সদস্য। তিনি হলেন থানাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন। থানায় যোগদানের পর নানা উদ্যোগ নিয়েকোতোয়ালী   থানাকে সাজিয়েছেন চিত্রকর্ম, দেয়াল   লিখন   ওঅসংখ্য ফুলগাছ দিয়ে। সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় গেট থেকে কোতোয়ালী থানার পুরো দেয়ালজুড়ে ৫৯টি নান্দনিক চিত্রকর্ম ওদেয়াল   লিখন।   দেয়ালের   নিচের  অংশটি  সাজানো   হয়েছে   অসংখ্য ফুলগাছ  দিয়ে। কোতোয়ালী  থানার   ভেতর-বাইর   এমনভাবেসাজিয়েছেন, যেন  থানাটি পেয়েছে অন্য  একরূপ। থানায়  সেবানিতে আসা মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ‘সেবাছাউনি’।   তাই   সেবা   নিতে  এসে   কাউকে  এদিক-ওদিক   ঘুরতেহচ্ছে   না।   কোতোয়ালী   থানার   ভারপ্রাপ্ত   কর্মকর্তা   (ওসি)মোহাম্মদ মহসীনকে থানা এমন পাল্টে দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেতিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ থানায় যোগদানকরতে চেয়েছি। সকলের দোয়ায় কোতোয়ালী থানায় যোগদান করতেপেরেছি।   যোগদানের   পর   প্রথমে   থানার   পরিবেশকে   সকলের   কাছেগ্রহণযোগ্য   করতে   চেয়েছি।   থানার   কর্মকর্তারা   যদি   সুন্দরপরিবেশে কাজ করার সুযোগ পান, তাহলে তাঁদের কাজে দ্রæততাআসে। এতে সেবার মান বৃদ্ধি হয়। তাই আমি আমার থানাকেআমার  মতো  করে  সাজানোর  চেষ্টা  করেছি।  পাশাপাশি  চেয়েছিথানায় সেবা নিতে আসা কেউ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতেনা পরে। আমি সুন্দর পরিবেশে সহজ  সেবা দিতে চাই। তিনিআরো   বলেন,  কোতোয়ালী  থানার  অধীনে  সেবা  গ্রহণ কারীরসংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। সৌন্দর্যবর্ধনে যদি সকলের মন¯Íাত্তি¡কউন্নয়ন হয়, তাহলে আমাদের উচিত অন্তত নিজের অবস্থানটি সুন্দরকরে গুছিয়ে রাখা। এছাড়াও আমার থানায় অনেক বিদেশী পর্যটক ওপুলিশরা  আসেন।  তারা  যদি  আমার  থানায়   এসে  সুন্দর   একটিপরিবেশ পান, তাহলে তারা অন্তত এ থানার একটি সুন্দর ছবি নিয়ে যাবেন। এতে আমাদের থানার পরিচিতি সুনামের সাথে বাড়বে।’থানার পরিবেশকে সকলের গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য এমন আর কি
ভাবনা আছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার থানায় সেবানিতে আসা মানুষের জন্য আমি সেবা ছাউনি করেছি। আমিচাই,   আমার   থানায়   আহত   হয়ে   আসা   লোকজন   যেন   এখানেপ্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে। তাহলে দেখা যাবে, আমরাতাঁর সেবা দেয়ার সাথে সাথে তার বক্তব্য রেকর্ড করার সুযোগপাবো।   পরবর্তীতে   তাঁকে   ভালো   চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠাবো। এমন সেবা দিতে পারলে, পুলিশের সাথে সকলের বন্ধুত্বটা সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে। সর্বোপরি আমি চাই আমার থানাআমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করুক। কোতোয়ালী থানাকে নির্মল ওসুন্দর   করে   সাজাতে   চট্টগ্রাম   মেট্রোপলিটন  পুলিশসহ(সিএমপি)  নানা প্রতিষ্ঠান   থানাটির  ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেছেন   বলে   জানিয়েছেন  তিনি। কোতোয়ালী থানাকে   খোলনচে   পাল্টে   দেওয়া   ছাড়াও জনগণের  কাছে  পুলিশি সেবাকে   পৌঁছে   দিতে  নানা  উদ্যোগে   নিয়েও   প্রশংসাকুড়িয়েছে   এ   পুলিশ   কর্মকর্তা।   নগরবাসী   মনে   করে   নগরীর প্রত্যেক থানা ও থানায় কর্মকর্তারা কোতোয়ালী থানা ও   ওসি মহসীনের মত হলেই পুলিশ জনগণের বন্ধু কথাটি শতভাগ স্বার্থকহবে।