মেঘনা নদীর গতি পরিবর্তন ও ভোলার ইলিশা পয়েন্ট থেকে পূর্বদিকে ‘জাহাজ হাড়ি’ এলাকায় নতুন চর জেগে ওঠায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে বিপর্যয় নেমে এসেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট নদী বন্দরে। এ কারণে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘাট ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বারবার জানানোর পরও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যথাযথ ড্রেজিং কার্যক্রম নিচ্ছে না। অথচ বরাদ্দ থাকলেও ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান নেই বলেই মনে করছেন অনেকে।
লঞ্চ ও ফেরিঘাট ইজারাদার আমির আহমেদ রাজু বলেন, “নদীতে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। যাত্রীদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।”
বিআইডব্লিউটিএ’র লক্ষ্মীপুর নদী বন্দরের নৌপরিবহন পরিদর্শক মো. আব্দুর রহমান শিকদার বলেন, “লঞ্চঘাটের পল্টন নিচ দিয়ে বালু মহলের পাইপ টানার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয়। তবে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।”
বিআইডব্লিউটিসি’র সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. আতিকুজ্জামান বলেন, “নদীপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং জরুরি। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনারও উন্নয়ন প্রয়োজন, যাতে যানজট কমে।”
টার্মিনাল সুপারইনটেনডেন্ট নূরুর রহমান বলেন, “জোয়ারের সময় কোনো রকমে লঞ্চ চলাচল করলেও ভাটার সময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে দ্রুত ড্রেজিং না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, চর জাগা ও ড্রেজিং না হওয়ার কারণে ঘাটটির কার্যকারিতা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব আয় কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে যাত্রী দুর্ভোগ।
Leave a Reply