নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে হরতাল স্থগিত করলেন পৌর মেয়র মির্জা

নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বহিষ্কার,জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল ও অপরাজনীতি বন্ধের দাবিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা ২০মিনিটে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আশ^াসে বসুরহাট জিরো পয়েন্ট বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে হরতাল স্থগিতের ঘোষণা দেন আবদুল কাদের মির্জা।

হরতাল কর্মসূচি ঘোষণার সময় আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমাদের নেতা (ওবায়দুল কাদের) মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে এখানে মুজিব বাহিনীর সহকারী অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬৯সালে ৬দফা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। স্বাধীনতার পরে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দু’গ্রুপকে একত্র করেছেন। তিনি ৩০ মাস জেলে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর আরো একবার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন বিমান বন্দরে শেখ হাসিনা অবতরণ করেন, তখন প্রচুর বৃষ্টি, ঝড় ও তুফানের মধ্যে লক্ষ লক্ষ জনতার গগনবিদারী শ্লোগান আমরা দেখেছি, সেদিন আপনাদের নেতা ওবায়দুল কাদের সভাপতি ছিলেন।
তিনি বলেন, আমি কিছুদিন আগে আমেরিকায় গিয়ে ছিলাম। সে সময় নেত্রীও (শেখ হাসিনা) আমেরিকায় ছিলেন। আমি নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সাথে দেখা করেছিলাম কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য, নেত্রী (শেখ হাসিনা) তখন বলেছিলেন আমির হোসেন আমু ও ওবায়দুল কাদের আমাকে বাংলাদেশে এনেছিলো। কাদেররে প্রতি দ্বায়িত্ব ছিলো তাই আমি তার চিকিৎসার দ্বায়িত্ব পালন করেছি। সে দিন আমি বুঝেছিলাম আমার নেতা ওবায়দুল কাদেরকে নেত্রী কত ভালোবাসেন। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের ২ বারের সাধারণ সম্পাদক, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। রাজনীতি করতে গিয়ে ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় ওবায়দুল কাদেরের শরীর ক্ষত বিক্ষত হয়েছিলো। এখন নোয়াখালীর তথাকথিত আওয়ামী লীগ নেতা, মাতাল একরাম চৌধুরী আমাদেরকে রাজাকার পরিবার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেলসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
উল্লেখ্য,নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) গভীর রাতে নিজের ফেসবুকে লাইভে এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজাকার ফ্যামিলির লোক’ বলে কটূক্তি করেন। এর প্রতিবাদে এমপি একরাম চৌধুরীর বহিষ্কার ও বিচার দাবিতে ওবায়দুল কাদেরের নিজ এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় হাজার হাজার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী লাগাতার বিক্ষোভে অংশ নেন।