কিছুদিন আগের কথা। উপকূলীয় জেলা খুলনার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ আর শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে অনুভব করলাম, রিপোর্ট পড়া বা খবর শোনার সঙ্গে বাস্তবে দেখার কত ফারাক! নিজে না দেখলে বা সেখানকার মানুষদের কাছ থেকে না শুনলে, এই ভয়াবহতা উপলব্ধি করা সম্ভব হতো না। গত কয়েক দশকে উপকূলীয় এলাকায় পানির লবণাক্ততা বেড়ে চলেছে। সেই লবণাক্ততাকে কেউ অধিক অর্থ উপার্জনের পথে লাগাচ্ছে, কেউ এটাকে প্রজেক্ট হিসেবে নিয়ে সংস্থার কাজের সুযোগকে চলমান রেখেছে। জোর গলায় কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তা মোকাবিলায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। প্রতিদিন পূর্বদিকে সূর্য ওঠার মতো সত্য যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের যে বিপন্নতা তার প্রভাব প্রথম এসে পড়ে নারীর ওপর। এই পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, নদীর পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে, নদী শুকিয়ে গেছে। এ অবস্থা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভয়ংকরভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। দুই-একটি নলকূপ, যেখানে খাওয়ার উপযোগী পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ির জন্য পানি নারীদের সংগ্রহ করতে হয়। পানি-আনা পাত্র নিয়ে পানির জন্য নারীদের দীর্ঘপথ হাঁটতে হয়। বাড়ি ফেরার পথে গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত যেখানে যেন এখন স্বাভাবিক ঘটনা। এমন আশ্চর্য কথা শুনলে কিংবা চোখের সামনে দেখলে, শরীর শিউরে ওঠে। শুধু খাওয়ার পানিই নয়, সংসারে সবকিছুর জন্য যে পানি দরকার সেই পানি নারীকে সংগ্রহ করতে হয়। ফলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি নারীকেই হতে হয়েছে।
খুলনা, সাতক্ষীরা অঞ্চলের নারীদের কাছ থেকে জানা গেল, লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে তাদের চুল এবং ত্বকের প্রচণ্ড ক্ষতি হচ্ছে। শরীরের রঙ কালো হয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুত বার্ধক্য চলে আসছে। এ ছাড়া গর্ভপাত ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেখানকার নারী ও শিশুরা চিংড়িপোনা ধরার জন্য ভাটার সময় ভোরে ও দিনের বেলায় প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা লবণাক্ত পানিতে থাকে। এ কারণে তারা প্রজননসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। লবণাক্ততার কারণে সেখানে ফসল হয় না। কাজের খোঁজে পুরুষকে ঘর ছাড়তে হয়। মেয়েরা সন্তান ও বয়স্কদের দেখে রাখার দায়িত্ব নিয়ে বাড়িতে থেকে যায়। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব থাকে নারীর। পুরুষ বাড়িতে না থাকায়, নারীকে তখন ভীষণভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। লবণাক্ত পানির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা জরায়ু ক্যানসারের মতো জটিল রোগে ভুগছেন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর যে কয়েক লাখ নারী জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ উপকূলীয় অঞ্চলের নারী। নারীদের জরায়ুসংক্রান্ত অসুখের তীব্রতা লবণাক্ততাপ্রবণ গ্রামগুলোতে বেশি। সেজন্য অল্প বয়সেই এ এলাকার নারীরা অপারেশন করে শরীর থেকে জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে জরায়ুসংক্রান্ত রোগে ভুগছেন এমন নারীর সন্ধান পাওয়া যাবে। ‘সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবে লবণাক্ততার প্রভাব’ শীর্ষক রিসার্চ রিপোর্টে জানা গেল, উপকূলীয় অঞ্চলে নারী ও কিশোরীরা ঋতুস্রাবের সময় ব্যবহৃত কাপড় ধুয়ে আবারও সেটা ব্যবহার করে। এ ছাড়া লবণাক্ত পানিতে গোসলসহ দৈনন্দিন কাজের কারণে তাদের জরায়ুসংক্রান্ত রোগের উপস্থিতি অনেক বেশি। উপকূলের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই জরায়ুসংক্রান্ত রোগে নারীরা আক্রান্ত, ডাক্তাররা রোগীদের জরায়ু কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন। নারীদের জরায়ু কেটে ফেলার পর, অনেকের স্বামী দ্বিতীয় বা ততোধিক বিয়ে করছেন বা স্ত্রীকে ডিভোর্স দিচ্ছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে নারীদের গর্ভপাতের হার বেড়েছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার গর্ভবতী নারীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি গ্রহণের ফলে নারীদের জরায়ু রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন খিঁচুনি, গর্ভপাত, এমনকি অপরিণত শিশু জন্ম দেওয়ার হার বেড়েছে। এ ছাড়া দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ, গোসল, কৃষিকাজ, গবাদি প্রাণী পালন, চিংড়িপোনা ধরাসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কাজে লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে নারীরা সাধারণ পানিবাহিত রোগ এবং চর্মরোগের সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। মনে হলো, ‘পানিই জীবন’ এই কথাটি আজ যেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবনে বিশেষ করে নারীদের জন্য। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল এখন লবণাক্ত পানির করাল গ্রাসে নিমজ্জিত। এই লবণাক্ততা শুধু মাঠের ফসল নষ্ট করছে না, মাটি আর পানির ভারসাম্যও ভেঙে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নারীদের দেহে আর জীবনে যা কেবল স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপার নয়, এটা এখন নারীর জন্য টিকে থাকার সংগ্রামের প্রশ্ন। ৪২ বছর বয়সী শ্যামনগরের ফারজানা বেগমের কথা বলি। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনি চিংড়িপোনা সংগ্রহ করতে লবণাক্ত পানিতে থাকেন। তার চামড়া অদ্ভুতভাবে খসখসে হয়ে গেছে। শুনলাম, তার ইউটেরাসে অনেক দিন ধরে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কখনো হাসপাতালে যেতে গিয়ে ‘পয়সা নেই’ বলে আশপাশ থেকে ঘুরে এসেছেন। বাড়িতে জানিয়েছেন হাসপাতাল থেকে ফিরলেন। কয়রা উপজেলার ৩৫ বছর বয়সের তাজিমায়া। তিনি চেষ্টা করেছেন, দ্বিতীয় সন্তান নিতে। তবে তার প্রথম সন্তান হওয়ার পর বারবার গর্ভপাত হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে এলাকার পানির অতিরিক্ত লবণাক্ততা। গবেষণায় দেখা গেছে, কয়রা অঞ্চলের পানিতে ইলেকট্রিক কন্ডাকটিভিটি এবং টোটাল ডিজলভড সলিডস-এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার প্রায় দ্বিগুণ। এই মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা তাজিমায়ার প্রজনন অঙ্গের ক্ষতি করেছে এবং তার নিয়মিত মাসিকচক্রকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দিয়েছে। ১৫ বছর বয়সের মুক্তা জানাল, ঋতুস্রাবের সময় তারা পুরনো কাপড় ব্যবহার করে। যা লবণাক্ত পানিতে ধোয়ার ফলে প্রজনন অঙ্গের সংক্রমণ হয়। স্কুলে গিয়ে বাথরুম ব্যবহার করতে ভয় পায়। উপকূলীয় অঞ্চলে ঋতুস্রাবের সময় নোনাজলে পুরনো কাপড় ধুয়ে ব্যবহার করতে গিয়ে সংক্রমণ ও জরায়ুর রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে অনেক কিশোরী নিজেরাই মাসিক বন্ধ রাখার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া শুরু করেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাসের পর মাস পিল খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখছে তারা যা তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিতভাবে পিল খাওয়ার ফলে মেয়েদের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
উপকূলীয় নারীর দিন শুরু : সাতক্ষীরার শ্যামনগর কিংবা খুলনার কয়রার যে নারীরা প্রতিদিন ভোরে বাড়ির পেছনের চিংড়ি ঘেরে নামেন, তাদের কাছে ভোর মানেই কাজের শুরু। জোয়ার নামলেই তারা কোমর পানিতে নেমে চিংড়িপোনা ধরতে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দীর্ঘসময় লবণাক্ত পানিতে থাকার ফলে নারীদের ত্বকে ফুসকুড়ি, চুল উঠে যাওয়া, চামড়ায় কালো দাগ, চুলকানি, এমনকি পায়ের গোড়ালিতে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে।
গর্ভপাত, বন্ধ্যত্ব ও জরায়ু ক্যানসার : সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা ছাড়াও লবণাক্ত পানির সরাসরি প্রভাব পড়ছে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যে। বিভিন্ন গবেষণায় যেমন ‘আইসিডিডিআর,বি’ ও ‘ব্র্যাক’ পরিচালিত স্বাস্থ্য জরিপ) দেখা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের মধ্যে সময়ের আগেই গর্ভপাতের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পানির উচ্চ লবণাক্ততার ফলে অনেকে সন্তানধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন বা গর্ভপাতের শিকার হচ্ছেন। আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো, জরায়ু ক্যানসার। খুলনা অঞ্চলের একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, গত এক দশকে জরায়ুসংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত নারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অনেক সময় গোপনীয়তা ও সামাজিক সংকোচের কারণে নারীরা চিকিৎসার জন্যও আসতে পারেন না।
সময়ের আগেই বার্ধক্য : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৩৮ বছর বয়সী নারী ফাহিমা বেগমের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। মুখে বলিরেখা, গাল শুকিয়ে গেছে, দাঁতে ব্যথা, শরীরে শক্তি নেই। তিনি বললেন, ‘আগের কালে শরীরী বল ছেলো, বত্তমানকালে হাঁটতিও কষ্ট হয়। চুল পড়ি গেছে, গা-গতরের রঙ মরি গেছে। সারে মুখভরি দাগ। কী হয়িছে তা কিডা জানে, আমি হতো বুঝিনে। ডাক্তার ক’লো পানির জন্যি ইরাম হয়িছে।’ গবেষকরা বলছেন, উচ্চমাত্রার স্যালাইন পানির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংস্পর্শ শরীরের কোলাজেন নষ্ট করে, যা ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য জরুরি। এ ছাড়া সোডিয়াম ক্লোরাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘœ ঘটায়। যার ফলে চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়ে দ্রুত।
শিশুও ঝুঁকির বাইরে নয় : এ সংকট শুধু নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের সন্তানরাও শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। গর্ভাবস্থায় মা লবণাক্ত পানি পান করলে বা সেই পানিতে কাজ করলে তার প্রভাব পড়ে অনাগত শিশুর ওপরে। জন্মের পর শিশুর প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও দুর্বলতা দেখা দেয়। ব্র্যাকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের ৪০ শতাংশ শিশু জন্মের পর থেকেই কোনো না কোনো স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছে। যার মূল কারণ হিসেবে পানির লবণাক্ততা দায়ী।
লবণাক্ততা বাড়ছে কেন : বিজ্ঞান বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বারবার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় নদীতে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে। তার ওপর স্থানীয়ভাবে নিরাপদ পানির উৎস, যেমন পুকুর ও নলকূপও এখন লবণাক্ত হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার কোনো সঠিক ব্যবস্থা নেই। ফলে গরমকালে পানির সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়।
করণীয় : এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন।
পানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা : বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইনওয়াটার হারভেস্টিং) প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পানি নিরাপদকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন করা।
নারী স্বাস্থ্যসেবা সহজপ্রাপ্য করা : প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা ক্লিনিক স্থাপন করা। জরায়ু ক্যানসার স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন করা।
নিরাপদ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ : চিংড়িপোনা ধরা নারীদের জন্য বিকল্প আয়মূলক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা (যেমন ঘরে তৈরি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বেতের পণ্য ইত্যাদি)।
জলবায়ু অভিযোজনমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ : স্থানীয় নারী নেত্রীদের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, স্বাস্থ্যবিধি এবং পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা।
নীতিগত সহায়তা ও বাজেট বরাদ্দ : জাতীয় জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় নারী স্বাস্থ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। স্থানীয় সরকারকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দেশ দেওয়া। লবণাক্ত পানির ভয়াবহতা কেবল জলবায়ুর সমস্যা নয়, এটা এখন হয়ে উঠেছে নারীর বাঁচা-মরার প্রশ্ন। এই সমস্যা এখনই মোকাবিলা না করলে নারীরা স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও অধিকার হারিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের কথা তুলে ধরতে হবে বিভিন্ন আলোচনা, গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারকদের টেবিলে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ভার সবচেয়ে বেশি বহন করছেন উপকূলের এই সাধারণ নারীরা, যারা নীরবে চিংড়িপোনা ধরছেন, সন্তানকে বাঁচাতে সারাদিন যারা নোনাজলে ডুবে থাকছেন।
Leave a Reply