নির্মাণ শেষ না হতেই ফের শ্রীপুরের ফুটপাত দখলের হিড়িক!

আলফাজ সরকার আকাশ শ্রীপুর(গাজীপুর) থেকেঃ–একদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক রাস্তা ও ফুটপাত নির্মাণের ইটের ঢালাই অন্যদিকে হাঁটার জায়গাজুড়ে পণ্যসামগ্রীর পসরা আর হকারদের ব্যস্ততা। পথচারীরা ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে রাস্তায় হাঁটবেন, সেখানেও একই অবস্থা। রাস্তা দখল করে গাড়ি পার্কিং আর কাঁচামাল বিক্রি। সাথে রয়েছে রাস্তার পাশজুড়ে সারি সারি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সাইকেল আর মোটরসাইকেলের ভিড়।
এই হলো গাজীপুরের শ্রীপুর চৌরাস্তার সামনে থেকে রেলওয়ে স্টেশন, মধ্য বাজার ও শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় গেইট পর্যন্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের ফুটপাতের বর্তমান চিত্র। ছোট ছোট দোকান, ব্যবসাসামগ্রী আর হকারদের ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিদিনই হয়রানি পোহাচ্ছেন পথচারীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ করা হলেও প্রশাসন নিরব।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর কর্তৃক নবনির্মিত কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ের রাস্তাসহ ফুটপাতের শতভাগ কাজ শেষ না হতেই এর ওপর কোথাও দোকানের বারান্দা আবার কোথাও পণ্য সামগ্রী রেখে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন দোকানীরা। অন্যদিকে, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানের রাস্তার পাশে কাঁচামাল বিক্রি ও ফুটপাতে ফলের দোকান দিয়ে পথচারীদের হাঁটতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।

পথচারী আলমগীর হোসেন বলেন, শ্রীপুর চৌরাস্তা থেকে রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত আশপাশের মার্কেট গুলোর সামনের ফুটপাতে কোথাও দোকানের বারান্দায় নানা পণ্য, কোথাও আবার কাঁচামাল নিয়ে বসেছেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও যত্রতত্র চলছে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা। তার মধ্যেই লোকজন চলাচল করছে খুব কষ্ট করে। একদম গা ঘেঁষাঘেঁষি করে। পাশাপাশি দুজনের হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। ঠেলাঠেলি করে হাঁটতে হয়।

শ্রীপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন খান রতন বলেন, ফুটপাতে ব্যবসা হওয়ায় মানুষ হাঁটাচলা করতে পারে না। আর রাস্তায় যে হাঁটবে, তারও উপায় নেই। রাস্তাজুড়ে রিকশা-অটোরিকশা। পথচারীদের বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুল হক মুঠোফোনে জানান,৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার ফুটপাত তৈরির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দখলের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ফের অভিযানের কথা নিশ্চিত করে শ্রীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সামছুল আরেফীন বলেন, ফুটপাত থেকে অবৈধ ব্যবসা উচ্ছেদ করা হলেও আবার তাঁরা দোকান বসান। এ সমস্যা সমাধানে সবার সচেতন জরুরি।