নিউজের পর সরকারি ঘরসহ ভাতা পেল শ্রীপুরে কবরের উপর থাকা মিরজান বিবি!

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর গাজীপুর থেকেঃ- সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে সরকারি ভাতাসহ একটি ঘর পেয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন মধ্যপাড়া এলাকায় বাপ-দাদা-ভাইয়ের কবরের উপরে টিনের ছাপড়ায় থাকা পঞ্চাশর্ধো মিরজান বিবি।

২৭ মে বুধবার দুপুরে মিরজান বিবির ঘরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম।

এসময় জেলা প্রশাসক জানান, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসলে তাৎক্ষনিক ভাবে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফীনকে ফোন দিয়ে ঘরের ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও জরুরি ভিত্তিতে মিরজান বিবির জন্য সরকারি ভাতা ও অন্যান্য ত্রানের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুনজরুল ইসলাম জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী মিরজান বিবির জন্য আগামী রবিবারের মধ্যে স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার আওতায় আনা হবে।

ঘর ও সরকারি ভাতার সংবাদ পেয়ে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিরজান বিবির খোঁজ খবর নেয়া চেতনা-৭১ এর সভাপতি রাহাত আকন্দ। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। অবশেষে এই অসহায় নারীর একটা বাসস্থান ও জীবিকার নিশ্চয়তা হলো।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে মঙ্গলবার দৈনিক আমার সময় পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে-“বাপ-দাদার কবরের উপরে ছাপড়ায় ঘুমান শ্রীপুরে স্বামী পরিত্যক্তা মিরজান! “- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।৷ মিরজান বিবি (৫১) উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের মধ্যপাড়া (সুতিয়া নদীর পাড়ে) গ্রামের মিয়া চাঁন বেপারীর মেয়ে।

জন্মের আগেই দাদা-দাদী মারা যাওয়ার পর শিশু বয়সে বাবাও মারা গেলেন। এর কয়েক বছর পর মারা গেলেন মা কিতাপ জান । মায়ের পর একমাত্র ভাই নুরুল ইসলাম নুরু মিয়াও মারা গেলে একা হয়ে যান তিনি । পিতার মালিকানাধীন শুধুই আধা শতাংশ জমিতে সকলেরই কবর হয় পাশাপাশি। বিয়ে হলেও স্বামী ছেড়ে দিয়ে চলে গেলে থাকার জায়গায় না পাওয়ায় সেসব কবরের উপরই কুঁড়ে ঘরে কোনোমতে দিনাতিপাত করছেন তিনি।পুরোনো টিনের সাথে পলিথিন ও কাঠের টুকরো আর বাঁশ দিয়ে বানানো ছাপড়ায় বর্ষায় চুবিয়ে দেয় বৃষ্টির পানি আর শীতের তুষারে গা কাঁপিয়ে তুলে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের স্বামী পরিত্যক্তা পঞ্চাশার্ধো মিরজান বিবির।

অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা হলেও ভিক্ষাবৃত্তি না করে অন্যের বাড়ীতে কাজ করে কোনোমতে টেনেটুনে চলে তার একা জীবন। সরকারি সহায়তার আশায় দিন কাটলেও বিনিময় মিলে শুধুই প্রতিশ্রুতি। তারপরও বেঁচে আছেন মিরজান বিবি।