নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠার পর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার সে-ই নিউ আল রাজি হাসপাতাল অভিযান পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়,’শনিবার বিকেলের দিকে ওই হাসপাতালে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নবজাতকের পরিবারের দাবি ছিল ভুল চিকিৎসা ও নার্স দিয়ে ডেলিভারির প্রক্রিয়া করায় ওই নবজাতক মারা যায়। সে ঘটনার পর তদন্ত যায় উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। এসময় সেখানকার কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে হাসপাতালটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে সব কাগজপত্র হালনাগাদ করে স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করার শর্তে মুচলেকা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যথা সময়ে দেখাতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত জানান হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালটির কোনো প্রকার অনুমোদন নেই। তাই আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি সময়ও দেওয়া হয়েছে। সেসময় অতিক্রম করলে সেটি বন্ধ ঘোষণা করতে পারে। ”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন,’ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাথে নিয়েই ঘটনা তদন্ত যাই। লাইসেন্সসহ আনুষাঙ্গিক বিষয় গুলো দেখা হয়। তাৎক্ষনিক কয়েকটি অপরাধ পাওয়ায় আপাতত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদেরকে সময় দেওয়া হয়েছে। সে সময়ের মধ্যে পুর্নাঙ্গ তদন্তের পর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলের দিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে নার্স দিয়ে প্রসূতির ডেলিভারী করার সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠে আল রাজি নামক ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর মৃত নবজাতককে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে বিচার চান নবজাতকের বাবা-মাসহ স্বজনেরা।
মৃত নবজাতক উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের আজুগিরচালা গ্রামের নাজমুল ইসলাম ও শারমিন আক্তার দম্পতির।
নবজাতকের বাবা নাজমুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে সাড়ে ৮টার দিকে আমার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে আল রাজি হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ১৩ হাজার টাকায় সিজারিয়ান অপারেশন করার চুক্তি হয়। আমার স্ত্রীকে সিজারিয়ান অপারেশন না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করে সময় পার করতে থাকে। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় নার্স কল্পনা আক্তার নরমাল ডেলিভারির করার সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়।’
Leave a Reply