নজরুলের প্রতি জাতির পিতার সম্মান

এইচ এম মেহদী হাসান: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে মাধ্যমিকের প্রিটেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। এই স্কুলে অধ্যায়নকালে নজরুল এখানকার চারজন শিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

এরা হলেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সতীশচন্দ্র কাঞ্জিলাল, বিপ্লবী চেতনাবিশিষ্ট নিবারণ চন্দ্র ঘটক, ফার্সি সাহিত্যের হাফিজ নুরুন্নবী, সাহিত্য চর্চার নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। কবি নজরুল ছিলেন মানবতার বিশ্ব বিবেক। তিনি বিশ্ব প্রেমের ধরিত্রী। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। কবি নজরুল ইসলামের ধ্যান ধারণা, তাঁর শিল্প কর্ম, সাহিত্য সমগ্র বিশ্বের জ্ঞানপিপাসুদের খোরাক হিসেবে আজও বিবেচিত। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।সাংবাদিক ও একজন সম্পাদক হিসেবেও তিনি সাংবাদিক সমাজের আইডল।তিনি সর্বক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন সমান তালে। তিনি বিশ্ব ভালোবাসার আরেক নাম। কবি নজরুলের সৃষ্টি সুখের উল্লাসে আজও পৃথিবী হাসে। কবির গানের সুরে আজও পৃথিবী বিমুগ্ধভরে নিঃশ্বাস ফেলে। তিনি সমগ্র বিশ্বের কবি, তিনি জাগ্রত পৃথিবীর আভা। কবির প্রেম ভালোবাসায় আজও পৃথিবীময় আলোকিত। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবি’র প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করে প্রিয় মাতৃভূমিতে নিয়ে আসছিলেন। আর বঙ্গবন্ধুর কারণেই আমরা পেয়েছি আমাদের জাতীয় কবিকে।আর বিশ্ব পেয়েছে বিশ্ব মানবতার বিবেক। জাতি ধর্মের ঊর্ধ্বে কবি গেয়েছেন তাঁর মানবতার গান।বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ার বলেছেন,”আপনি শুধু বাঙালি জাতিরই নেতা নন।এমন দিন আসবে সেদিন তৃতীয় বিশ্বের সমগ্র নির্যাতিত-বঞ্চিত মানুষের নেতৃত্ব দেবেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, পাকিস্তানের পরাজিত শক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধকে গলা টিপে হত্যা করেছে খুনিরা।সুতরাং জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম জীবিত থাকা অবস্হায় জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে কবি নজরুলকেও ভিষণ ভাবে বেদনা দিয়েছে খুনিরা।অথচ জাতির পিতা খুনি জিয়াউর রহমান রক্তের দাগ না শুকাতেই রক্তমাখা হাতে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে সমাধিস্থ করার জন্য উপস্থিত ছিলেন। ইতিহাসের সাথে কতো ই না তামাসা করেছেন খুনি জিয়া।যে নজরুলের বাণী বুকে ধারন করে জয়গান গেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর সেই বঙ্গবন্ধুকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন জিয়া।বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ এক ও অবিচ্ছেদ্য। আক্ষরিক অর্থেই বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ সমার্থক।যেন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ।১৪১১ সালের ১লা বৈশাখ এক জরিপে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রচার মাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) -এর বাংলা বিভাগ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ হিসেবে ঘোষণা করে। আর এই জরিপে শীর্ষস্থান লাভ করে বঙ্গবন্ধু পরকালে থেকেও আরেকবার বাংলাদেশ ও বাঙালির জন্য অবিস্মরণীয় অবদান রাখলেন। এইজন্যই বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের মহানায়ক। ইতিহাস মহানায়কদের সৃষ্টি করে না।মহানায়করাই ইতিহাসের গতিপথ নিরুপণ করে।বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা ও জাতিসত্তার প্রতীক।হয়তো অনেক পাঠক বলবেন এই প্রসঙ্গ কেন টেনে আনলেন।ইতিহাস আপন গতিতে চলে।মহানায়করা সত্যের আলোয় আলোকিত করে ইতিহাসের গতিপথ নিরুপণ করে।বিদ্রোহী কবি প্রেমের কবি, সাম্যের কবি, মানবতার কবি, কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইতিহাসের অমর অবিনশ্বর। তাঁর সৃষ্টিশীলতা অনন্তকাল ধরে পথ দেখাবে মানবকুলকে। তাইতো বঙ্গবন্ধু কবি নজরুল ইসলামকে এনে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছিলেন। হয়তো কবি নজরুল ইসলাম বাক শক্তি হারিয়ে না ফেললে তিনি প্রথম বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করতেন।বঙ্গবন্ধু শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠান।একটি আন্দোলন। একটি বিপ্লব। একটি অভূত্থান। জাতি নির্মাণের কারিগর। একটি ইতিহাস। তাই বঙ্গবন্ধু ইতিহাসে অমর, অবিনশ্বর। জাতীয় কবি নজরুলের প্রতি বঙ্গবন্ধুর সম্মান বাঙালি জাতিকে করেছে মহিমান্বিত। কবি নজরুল ইসলাম এর সৃষ্টিশীলতা আর মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ এগিয়ে যাক অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ, সাম্যের মূল্যেবোধ, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাত ধরে। জাতীয় কাজী নজরুল ইসলাম এর ৪৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলা ও বাঙালি জাতির প্রত্যয়। লেখক : সাবেক সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় সংসদ