আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ সদর আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কে পাবেন ধানের শীষের টিকিট—এ নিয়ে জোর লবিং, তদবির, যোগাযোগ আর গণসংযোগে ব্যস্ত স্থানীয় নেতারা। এ আসনে মনোনয়নের দৌড়ে থাকা চারজন প্রভাবশালী নেতাকে বুধবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে ডেকেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪৮ নম্বর ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দলের মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়, ত্যাগী এবং সংগঠনের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতারা। গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য যাদের ডাকা হয়েছে তারা হলেন— অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের রাজপথের লড়াকু মুখ। অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সভাপতি, মহানগর বিএনপির সাবেক তিনবারের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাকালীন দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক। মির্জা ফারজানা রহমান (হুসনা), জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) এবং ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, যিনি নারী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। এম. এ. হান্নান খান, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, যিনি দলের দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
এর আগে গত ২ অক্টোবর একই আসনের আরও দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাশী—দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রোকনুজ্জামান সরকার—কে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে মতামত নেওয়া হয়েছিল।
গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে ডাক পাওয়া ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা ফারজানা রহমান (হুসনা) বলেন, “গুলশান কার্যালয়ে আমাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছেন। বিভাগের প্রতিটি আসন থেকেই দু’জন বা তার বেশি স্থানীয় নেতাকে ডাকা হচ্ছে। দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই মনোনয়ন দেবে। আমরা সবাই ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ময়মনসিংহ সদর আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালের পর থেকে এ আসনে বিএনপি সংগঠনের ভিত শক্ত করেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে স্থানীয় নেতারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় কেন্দ্রের চোখ এখন ময়মনসিংহ সদরেই।
উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে তার পক্ষে সভা-সমাবেশ, পোস্টার, মিছিল ও প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়নে যোগ্যতা, সাংগঠনিক ভূমিকা, জনসম্পৃক্ততা ও আন্দোলনে সক্রিয়তাকে প্রধান বিবেচনায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা আরও জানান, এবার মনোনয়নে শুধুমাত্র পরিচিত মুখ নয়, বরং রাজপথে পরীক্ষিত, দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, ময়মনসিংহ সদর আসনে বিএনপির মনোনয়ন যুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই জমে উঠেছে। কে হবেন ধানের শীষের প্রার্থী—এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয় রাজনীতির অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
Leave a Reply