ধর্ষকদের মূল শক্তির উৎস কোথায়…?

এইচ এম মেহেদী হাসান

যুদ্ধে সবচেয়ে বিপন্ন নারী। যখন থেকে পৃথিবীতে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তখন থেকেই নারীরা বিপন্ন। পরাজিতদের ওপর আক্রোশ মেটানোর জন্য বিজয়ীরা লুটপাট, হত্যার সঙ্গে ধর্ষণের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেয়। সবশেষে আশ্রয় মিলে হয়তো গণিকালয়। আমাদের নবী(দ:) থেকে জেনিভা কনভেনশন সবখানে যুদ্ধের কিছু নিয়মনীতি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নারী এবং শিশু নির্যাতন যাতে না হয় সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে কিন্তু কেউ মানেনি। সভ্য বলে যারা নিজেদের দাবি করে তারাও না। আক্রমণকারীরা দমন করার জন্য সাধারণত দুটি অস্ত্র একই সঙ্গে ব্যবহার করে,একটি গণহত্যা, অপরটি ধর্ষণ। ১৯৩২ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানি সেনারা যেখানে গিয়েছে সেখানেই গণহত্যা ও ধর্ষণ চালিয়েছে। জাপানিদের ‘ নানকিং ম্যাসাকার ‘ তো বিখ্যাত। চীন ও কোরিয়ায় জাপানিরা শুধু গণধর্ষণ নয়,নারীদের বন্দি করে রেখেছে যৌনদাসী হিসেবে,আধুনিক ভাষায় যাদের কমফোর্ট উইম্যান হিসেবে অভিধা দেওয়া হয়েছে। জাপানিরা শুধু চীন কোরিয়াতেই নয়,মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনসেও একই কাজ করেছিল। একই সময় বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে জার্মান বাহিনী একই ধরনের কাজ করেছে। ১৯৭১ সালের আরো পরে বসনিয়ায় সার্বিয় বাহিনী, রুয়ান্ডায় টুটসিদের ওপর হুতুদের হত্যা ও ধর্ষণের কথা সুবিদিত। অন্তিমে,কোনো জাতিকেই দমন করা যায়নি, কিন্তু অজস্র নারীর জীবনে নেমে এসেছে হাহাকার। ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি মহিলাদের সঙ্গে একই ব্যবহার করেছিল। গণহারে বাঙালি নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে অনেক তত্ত্বকথা আওড়ানো যেতে পারে। তাত্ত্বিক কাঠামোও নির্মাণ করা যেতে পারে কিন্তু সব কথার মূল কথা,বাঙালিদের দমনের জন্য হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী ও তার সহযোগী রাজাকার, শান্তি কমিটির সদস্য,আলবদর, আলশামস[অধিকাংশ জামায়াতই ইসলামী ও মুসলিম লীগের সদস্য এবং অবাঙালি ]দুটি অস্ত্র ব্যবহার করেছে -হত্যা,গণহত্যা ও ধর্ষণ। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় এবং অনেক গবেষকও মনে করেন, ধর্ষণে পাকিস্তানের সমকক্ষ কেউ নয়। একাত্তরে এদেশের নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ব্যাপকতা এককযুদ্ধ ও সময়ের হিসাবে পৃথিবীতেও সংঘটিত সকল যৌন নির্যাতনের শীর্ষে। ( মুনতাসীর মামুন, বীরাঙ্গনা ১৯৭১) পাকিস্তানীরা যে বাঙালিদের দমন করার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা ও ধর্ষণ ব্যবহার করেছিল তা তাদের বিভিন্ন অসতর্ক মন্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়। কোনো পাকিস্তানি জেনারেল বা নীতি -নির্ধারক বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি, তাতে কিছু আসে যায় না বরং তারা যে মিথ্যাবাদী সেটি প্রমাণিত হয়। তবে বিভিন্ন জনের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।এখানে ধর্ষণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা যাক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘ অপারেশন সার্চলাইট ‘ কার্যকর করেন মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজা।অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি ও রাও ফরমান আলী। ১৯৭১ সাল নিয়ে লেখা খাদিমের আত্মস্মৃতি নিয়ে লেখা গ্রন্থের কিছু অংশ উল্লেখ করেছি… ১০ এপ্রিল একটি সভায় জেনারেল নিয়াজি উপস্হিত। সেখানে তিনি অকথ্য ভাষায় বাঙালিদের গালিগালাজ করতে লাগলেন এবং এক পর্যায়ে উর্দুতে বললেন,’ ম্যায় ইস হারামজাদি কওম কী নাসাল বদল দুন গা। ইয়ে মুঝে কীয়া সামঝতি হ্যায়’।[ তারা আমাকে চেনে না। আমি এই হারামজাদা জাতির চেহারা বদলে দেব]। পরের দিন খাদিম ঢাকা ছেড়ে যাবেন। নিয়াজিকে ব্রিফ করবেন। নিয়াজি তাকে এসে বললেন,’ ইয়ার, লড়াই কী ফিকার নাহি করো,উইতো হাম কার লাই গে। আভিতো মুঝে বেংগালি গার্ল ফ্রেন্ডস কা ফোন নাম্বার দে দো ‘[দোস্ত, যুদ্ধ নিয়ে মাথা ঘামিয়ো না। এখন বরং তোমার বাঙালি বান্ধবীদের ফোন নাম্বারগুলি আমাকে দাও]। পাকিস্তানি এই নীতির কথা বলেছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় ঔপন্যাসিক মূলক রাজ আনন্দ। ১৯৭২ সালে তিনি যা বলেছিলেন তার মূল কথা হলো ” নতুন একটি জাতি সৃষ্টির জন্য পশ্চিম পাকিস্তানিরা এই নীতি গ্রহণ করেছিল। ” জন হেস্টিংস নামে এক মিশনারী বলেছিলেন, ” পাকিস্তানী সৈন্যরা… মেয়েদের যৌনিপথে