দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর নেত্রীর বর্বর নির্যাতনের শিকার হলেন যৌনকর্মী।

মোঃ সিরাজুল ইসলাম, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:  দেশের সর্ববৃহৎ যৌনপল্লি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের  দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দা এক যৌনকর্মীকে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমুর বেগমের বিরুদ্ধে। আহত যৌনকর্মীর নাম রেহেনা বেগম (৩৫)। আহত অবস্থায় তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
এ ঘটনায় ‘অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমুর বেগম, লিলি বাড়ীওয়ালী, আলেয়া বাড়ীওয়ালী, দুলালী ও পারভিনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত রেহেনা বেগম।
  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোহেনা বেগম বুধবার দুপুরে জানান, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ‘অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমুর বেগম তার স্বামী ইউপি সদস্য আব্দুল জলীল ফকিরের সাথে আমার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এই সন্দেহে রোববার দিনগত রাত ১১ টার দিকে আমাকে তুলে নিয়ে অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের অফিস কক্ষে আটকে উলঙ্গ করে লাঠি দিয়ে বেধরক মারপিট করে।
এতে রক্তাক্ত হয়ে গেলে জখমের স্থানসহ গোপনাঙ্গে শুকনো মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে দেয়। শুধু তাই নয় আমার উপর নির্মম নির্যাতন ও আর্ত চিৎকারের পুরো দৃশ্য ঝুমুর তার মোবাইলে ভিডিও ধারন করে রাখে। বেশ কয়েক ঘন্টা পর তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে এক প্রকার গৃহবন্দী করে রাখে। সোমবার প্রায় সারাদিন ঘরে বন্দী থেকে সন্ধ্যার পর সুযোগ বুঝে পালিয়ে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেই। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালের ইনডোরে কর্তব্যরত সিনিয়র নার্স মুক্তা সরকার বলেন, রেহেনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। চিকিৎসকের নির্দেশনা মতো তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে ঝুমুর বেগম বলেন, রেহেনা একই সাথে ঢাকার সাভারের এক লোক ও স্থানীয় আরেকজন লোকের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকের সাথে প্রায়ই তার ঝামেলা হয়।
সোমবার রাতেও তাদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে সে কিছুটা আহত হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া রেহেনা পল্লীর একজন চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী। তার অপরাধের জন্য সে জেলও খেটেছে।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, রেহেনা বেগমের দেয়া লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।