দোহার পৌরসভার ২১ বছরের জটিলতার অবসান ঘটালেন সালমান এফ রহমান

মাকসুমুল মুকিম, দোহার-নবাবগন্জ( ঢাকা)

দীর্ঘ ২১ বছর পর ঢাকার দোহার পৌরসভার সীমানা জটিলতার অবসান হয়েছে। ঢাকা-১ আসনের সাংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং দোহার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দোহার পৌরসভার সীমানা সংকোচন এবং সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৭তম সভায় এ সীমানা জটিলতার সমাধান হয়।

উল্লেখ্য, দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের আংশিক অংশ নিয়ে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দোহার পৌরবাসীর ভোটাধিকারের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিলো দোহার পৌরসভা। এরপর দোহার পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে সুবিধাবাদীদের যোগসাজশে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন মামলার কারণে দীর্ঘ ২১ বছরে দোহার পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত ছিল।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের পরবর্তীতে পৌরসভার সীমানা ধরা হয় ২১.১২ কি.মি. যার মোট জনসংখ্যা ৭১হাজার ৩৬২ জন। পুরুষ ভোটার ৩৫,০২৪ জন (৪৯.০৮/), মহিলা ভোটার ৩৬৩৩৮ জন (৫০.৯২/)। এরপর দোহার পৌরসভা কর্তৃক সীমানা ও কর বাড়ানোর তাগিদপত্র দিলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও ডা. আব্দুস সোবহান মিলে পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিট পিটিশন মামলার কারণে দীর্ঘ ২১ বছর অনুষ্ঠিত হয়নি দোহার পৌরসভার নির্বাচন।

বিষয়টি কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সুদৃষ্টি পড়ে। এরপর তার একান্ত প্রচেষ্টায় দোহার পৌরসভার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সালমান এফ রহমানের নির্দেশে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন দোহার পৌরসভার সিমানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে উচ্চ আদালতে রিটকারীদের নিয়ে আদালত কর্তৃক পিটিশন মামলা প্রত্যাহার করেন। এর ধারাবাহিকতায় পৌর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে পৌর নির্বাচনের আগে পৌর সীমানা পুন:নির্ধারন করার প্রচেষ্টা চালায় দোহার পৌর কর্তৃপক্ষ ও দোহার উপজেলা প্রশাসন। ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দোহার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু পৌরসভার সীমানা পুননির্ধারণ কার্যক্রম সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য ইসিকে চিঠি দেয়। চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন স্থগিত করেন তৎকালীন দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম।

অবশেষে দীর্ঘ ২১ বছর পর ঢাকা-১ আসনের সাংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং দোহার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দোহার পৌরসভার সীমানা সংকোচন এবং সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম ফিরোজ মাহমুদ ও পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান।