বর্ষা মৌসুমের আগমুহূর্তে খাল–নালা–নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার এটি সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। নগরীতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা। কিন্তু এর বিপরীত এক চিত্র দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানাধীন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর এলাকার ৩৮ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী চান্দার পাড়ার টিজি কলোনি মুখ থেকে রেললাইন ঘেঁষে আনন্দবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ নালাটিতে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ—দীর্ঘ এক থেকে দেড় বছর ধরে পানি নিষ্কাশনের এই প্রধান নালাটিতে কোনো ধরনের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নালাটি এখন বালু, আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরে পথচারীদের চলাচলের মতো রাস্তার আকার ধারণ করেছে। বর্ষা অথবা জোয়ারের সময় নালার দুই পাশের বসতবাড়িগুলোতে পানি ঢুকে সৃষ্টি করে চরম ভোগান্তি।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে টিজি কলোনির মুখ থেকে কিছু ময়লা ও আবর্জনা উত্তোলনের কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজার বিকাশ বাবু এবং জোন–৬ পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। তাঁরা দায়িত্ব এড়িয়ে সরঞ্জাম ঘাটতির অজুহাত তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নালাটি পরিষ্কার করার বিষয়ে মাননীয় মেয়র অবগত আছেন এবং নির্দেশনাও দিয়েছেন। আমার জানা মতে আংশিক পরিষ্কার কাজ শুরু হয়েছিল, তবে পরবর্তী আপডেট সুপারভাইজার আমাকে জানাননি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে, জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে এলাকাবাসীরা মনে করেন, চসিক মেয়র এ বিষয়ে সঠিকভাবে অবগত নন। তাদের দাবি—মেয়র বিষয়টি জানলে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতেন। তাঁরা বলেন, “মেয়র মহোদয়ের ওপর আমাদের আস্থা আছে। তবে মনে হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি তাঁর কাছে তুলে ধরছেন না। আমরা আশা করি মেয়র তথ্য জানলেই কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এবং নালাটি পানি চলাচলের উপযোগী করে দেবেন।”
নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন—বর্ষার আগে খাল–নালা পরিষ্কার না হলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সরঞ্জামের ঘাটতি এবং মনিটরিংয়ের দুর্বলতার কারণে নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুম আসন্ন। তাই নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নালা–নর্দমা পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি
Leave a Reply