দেওয়ানগঞ্জে’র প্রতিবন্ধী পরিবারকে উচ্ছেদ পায়তারার অভিযোগ

আব্দুল্লাহ আল লোমান,জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খড়মা দিঘলকান্দি গ্রামের মৃত মিনহাজ শেখের অসহায় দিন মজুর প্রতিবন্ধী পরিবারের শেষ আশ্রয় স্থল বসতভিটা উচ্ছেদ পায়তারার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের বাসিন্দা প্রভাবশালী আব্দুর রশিদের ছেলে বজলুর রহমান ওরফে বানারু শেখের উপর।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে অসহায় প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগি পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,খড়মা দিঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মৃত জয়েন উদ্দিনের ছেলে মিনহাজ শেখ ২০০২ইং সালের আগে স্ত্রী জহুরা,ছেলে জসিম,ওয়াসিম, মেয়ে মিনারা,দিনারা,আমেনা ও শারিরীক প্রতিবন্ধি মেয়ে মিনাকে নাবালক রেখে একটি মামলায় যাবত জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে কারা ভোগ করেন। পরবর্তি তার স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে নাবালক সন্তানরা খেতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বাড়ির ঝি এর কাজ করে অতি কষ্টে দিনাপাত করে আসছিলেন। দীর্ঘ দিন মিনহাজের স্ত্রী সন্তান খোঁজ খবর না পেয়ে অবশেষে মিনহাজ কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকাবস্থায় ইসলামপুর উপজেলার টংগের আলগা গ্রামের বাসিন্দা মৃত শাহা শেখের ছেলে রাজা শেখের সাথে সাক্ষাত হয়। পরে তিনি রাজা শেখের মাধ্যমে স্ত্রী সন্তানের যোগাযোগ করতে জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিটি রাজা শেখ নিয়ে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানকে না পেয়ে অবশেষে মিনহাজের ভাই আব্দুর রশিদের ছেলে বজলুর রহমান ওরফে বানারু শেখের নিকট দেন।বজলুর রহমান ওরফে বানারু শেখ মিনহাজের সন্তানদের কাছে চিঠি হস্তান্তর করবে বলে চিঠিটি নিয়ে নেয়। কিন্ত বজলু চিঠি পৌছে না দিয়ে চাচা মিনহাজের সাথে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেন। ওই সময় মিনহাজ দীর্ঘদিন কারাগারে থাকাবস্থায় জমানো ৯৩হাজার টাকা তার সন্তানদের দেওয়ার জন্য ভাতিজা বজলুর রহমানের কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে বজলু বাড়ি এসে তার সন্তানদের টাকা না দিয়ে নিজেই আত্মসাত করেন। পরবর্তি ২০০৩ইং সালের শেষার্ধে মিনহাজ যাবত জীবন কারাভোগ শেষে বাড়ি ফিরে এসে জানতে পারেন তার দেওয়া ৯৩ হাজার টাকা ভাতিজা বজলু রহমান তার সন্তানদের না দিয়ে নিজেই আত্মসাত করেছেন।পরে তিনি উপায়হীন হয়ে ২০০৪ইং সালের ১৭ আগষ্ট তৎকালিন দেওয়ানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতে ৯৩হাজার টাকা আদায়ের জন্য একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালিন ইউপির চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান তিনি বাদি বিবাদী উভয় পক্ষে জবানবন্দি গ্রহন করেন এবং অবশেষে ৯৩হাজার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি যথাযথ ভাবে প্রমাণিত হলে টাকা ফেরত দিতে নির্দ্দেশ দেন গ্রাম্য আদালত বজলুর রহমানকে। পরে বজলুর রহমান নগদ টাকা দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে গত ১৪/০২/২০০৫ইং তারিখে গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে খড়মা দিঘলকান্দি মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং ৫৩৬ দাগ নং ২০৮০ বজলুর রহমানের নিজ নামিও জমি থেকে ০.৭ শতাংশ জমি চৌহদী করে গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে মিনহাজকে বুঝিয়ে দিয়ে আপোষ-মিমাংসা হন।
উল্লেখ্য যে এতদা সংক্রান্ত বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতের রায় অর্ডার সিটে লিখিত রয়েছে।

পরবর্তি মিনহাজ ৭ শতাংশ জমিতে কোন মতে বসতিস্থাপন করে তার সন্তানদের খোঁজে এনে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্ত অর্থের অভাবে জমি টুকু রেজিষ্ট্রি করার পূর্বেই হঠাৎ তিনি মারা যান। বর্তমানে মৃত মিনহাজের অবিবাহিত প্রতিবন্ধী মেয়ে মিনা বেগমকে নিয়ে অসহায় দিন মজুর ২ ছেলে জসিম ও ওয়াসিম বসবাস করে আসছেন। এদিকে মিনহাজের মৃত্যুর পর থেকে প্রভাবশালী বজলুর রহমান ঐ ৭ শতাংশ জমি দলিল করে না দিয়ে অসহায় পরিবারটি উচ্ছেদ করার জন্য মাঝে মধ্যে সাংঘ পাঙ্গ নিয়ে বসত ভিটায় হামলা চালিয়ে ভাংচোর করেন। কেউ বাধা দিতে গেলে তাদের উপর শাররীক নির্যাতন মারধর করে প্রাণ নাসের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে জানায় তারা। শুধু তাই নয়,বরং দিনমজুর অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারটিকে উ”েছদর জন্য উল্টো বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করতে বজলুর রহমান বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় গত ১৫/১০/২০২০ইং তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ নং ৬৯৬৩ তারিখঃ-১৫/১০/২০২০ইং এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত জামালপুর পি মোকদ্দমা নং ২৬১/২০২০ ধারা ১৪৪ ফৌঃ কাঃ বিঃ স্মারক নং ৬২৩/২০২০ তারিখ ১২/১১/২০২০ইং দায়ের করে উচ্ছেদের পায়তারা করে আসছেন।
এ ব্যাপারে ঐ এলাকার প্রতিবেশী আবু বক্কর,লাল মিয়া,মতিজল,ঝলমলি বেগম,ফারুক হোসেন,জহুরা বেগম,মকবুল হোসেন ও বিপ্লব জানান,এই বাড়ি ভিটার জমি তৎকালিন ইউপির চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান গ্রাম্য আদালতে বিচার করে মৃত মিনহাজের ৯৩হাজার পাওনা টাকার পরিবর্তে ৭শতাংশ জমি বজলুর কাছ থেকে নিয়ে দিয়েছিল। কিন্ত হঠাৎ মিনহাজের মৃত্যুর পর থেকে বজলু তার সন্তানদের উচ্ছেদ করতে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচোর করে,কেউ বাধা দিতে গেলে মারধর করে। প্রতিবেশীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের নামে মামলা দিয়ে নানা ধরনের হয়রানির করে আসছেন বলে জানান তারা।
এবিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,বিষয়টি আমি শুনেছি। একই ইউপির সদস্য আশরাফুল আলম জানান, ২০০৫ সালে গ্রাম্য আদালতের বিচারে ৭শতাংশ জমি লিখিত রায় দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে ছিলেন। কিন্ত জমিটুকু রেজিষ্ট্রি দলিল করে না নেওয়ার কারণে এই ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিশ দরবার করা হয়েছে। কিন্তু কিছু দিন পর পর আবারও একই অবস্থা দেখা দেয়।