সংবাদকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি এবং নিয়মিতভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহবুব দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সততার সাথে কাজ করে আসছেন।যেখানেই অপরাধ সেখানেই ছুটে চলেন মাহবুব। সত্য প্রচারে কখনোই তিনি পিছপা হননি বিক্রি হননি কখনো অর্থের কাছে। সব সময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলছেন সাংবাদিক মাহবুব। তার নিউজের মাধ্যমে শরীয়তপুরের অনেক অবহেলিত নির্যাতিত মানুষ ও বিচার পেয়েছেন যা সাধারণ জনগণের কাছে সত্যিই প্রশংসনীয় । ইতিমধ্যে সখিপুর থানার আরশিনগর ইউনিয়নের অবৈধভাবে মোজাফফর সরদার জাহানারা বেগম নামে এক নারীর ঘরবাড়ি ভেঙে দিলে তার নিষ্ঠুর চিত্র তুলে ধরেন সাংবাদিক মাহবুব। সাথে সাথে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এবং প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। এ ছাড়াও
জানা যায়, গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি তার ফেসবুক পেইজ অল ভয়েস টিভি থেকে নিয়মিত লাইভ সম্প্রচার ও সংবাদ পরিবেশন করেন। ৪ আগস্ট ডিএমখালীতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যুবলীগ কর্মীদের হামলার সময় তার পায়ে ইট লাগে। ঘটনাটি সরাসরি লাইভ সম্প্রচারে অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন। পরে তিনি ভেদরগঞ্জ পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আবারও সংবাদ সংগ্রহে যোগ দেন। এখনো তার পায়ে সেই আঘাতের দাগ বিদ্যমান।
সম্প্রতি কুচাইপট্টি নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার ও কাটার দিয়ে বালু উত্তোলনের সংবাদ তিনি সরাসরি সম্প্রচার করেন। সংবাদ প্রচারের পর আলুবাজার ফেরিঘাট নৌ-পুলিশ ও গোসাইরহাট থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে একটি কাটার ড্রেজার জব্দ ও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। ওই মামলায় কুচাইপট্টির আতাউর রহমান দুদু মিয়ার নাম উঠে আসে।
এছাড়া নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নে হতদরিদ্রের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কম দেওয়া এবং কার্ডধারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তার প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক যায়যায় দিন সংবাদ প্রকাশ করলে তিনি নিজ পেইজ থেকেও সংবাদটি প্রচার করেন। এর কিছুদিন পর মতিউর রহমান সাগর সংবাদটি ডিলেট করতে চাপ দেন। কিন্তু সাংবাদিক নীতিগত কারণে ডিলেট করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সাগরের বক্তব্য প্রচারের প্রস্তাব দেন।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই মতিউর রহমান সাগরের স্ত্রী মিসেস মুক্তা রহমান সাগর ও কুচাইপট্টির দুদু মিয়া ফেসবুকে ওই সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে তাকে “হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে”, “কক্সবাজারে মামলা দেওয়া হবে” ইত্যাদি হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন,মাহবুবুর রহমান জানান“আমি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যমে কাজ করছি। সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় কলম ধরেছি। এজন্যই এখন আমাকে প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সম্মিলিত সাংবাদিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটি মহাসচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সরদার জানান একজন পেশাদার সাংবাদিককে এইভাবে হয়রানি করা মোটেই কাম্য নয়। বিষয়টি তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
সাংবাদিক মাহবুব বর্তমানে মোহনা টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি এবং তার নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল অল ভয়েস টিভিতে দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। দৈনিক আমার সময়কে মাহবুব বলেন আমাকে প্রতিনিয়ত যে হুমকি দেয়া হচ্ছে তাতেও আমি থেমে থাকবো না সত্য প্রচারে তবে এ বিষয়ে আমি
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
Leave a Reply