তালেবানের হাতে জালালাবাদ শহরের পতন, বাকি শুধু কাবুল

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদের দখল নিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। কোনো যুদ্ধ ছাড়াই সশস্ত্র ওই গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা শহরটির দখল নেয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। জালালাবাদের পতনের পর এখন বড় কোনো শহর হিসেবে একমাত্র রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণই দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের হাতে রয়েছে।

আলজাজিরা বলছে, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশের রাজধানী শহর জালালাবাদ। রোববার ভোরে শহরটি দখলে নেয় তালেবান যোদ্ধারা। এটি আফগানিস্তানের পঞ্চম বৃহত্তম শহর এবং রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ৮০ মাইল পূর্বে অবস্থিত। এর কিছু সময় আগে চতুর্থ বৃহত্তম আফগান শহর মাজার-ই-শরীফ দখলে নেয় তালেবান।

জালালাবাদ শহর দখলে নেওয়ার পর অনলাইনে এ সংক্রান্ত ছবি পোস্ট করেছে তালেবান। সেখানে তালেবান যোদ্ধাদেরকে জালালাবাদের গভর্নরের অফিসের ভেতরে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে তালেবানের হাতে জালালাবাদ শহরের পতনের কথা নিশ্চিত করেছেন সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও। আহমদ ওয়ালি নামে জালালাবাদের এক বাসিন্দা জানান, ‘আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে শহরের চারদিকে কেবল তালেবানের পতাকা দেখতে পাচ্ছি। কোনো ধরনের যুদ্ধ ছাড়াই তারা শহরে প্রবেশ করেছে।’

নানগারহার প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদের একজন আইনপ্রণেতা আবরারুল্লাহ মুরাদ বার্তাসংস্থা এপি’কে জানান, সরকারের পতন নিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠরা আলোচনা করার পর সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধfরা জালালাবাদ শহরের দখল নেয়।

জালালাবাদ-ভিত্তিক অন্য এক আফগান কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এখানে কোনো যুদ্ধ হয়নি। কারণ গভর্নর নিজেই তালেবানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথই হচ্ছে বিনা বাধায় তালেবানের হাতে শহরটি তুলে দেওয়া।’

এদিকে জালালাবাদ শহরের পতনের কথা নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাও। তিনি বলছেন, এর ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানকে সংযুক্তকারী সড়কটি এখন তালেবানের দখলে।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট শুক্রবার থেকে তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের অন্তত ২১টির রাজধানী নিজেদের দখলে নিয়েছে।