তবুও বাঁচতে চায় শ্রীপুরের আব্দুল মিয়া!

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ    বাবাও ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতেন। দৃষ্টিশক্তি কমে গিয়ে কর্মক্ষম না হওয়ায় নিজেও এ পাড়ায় ও পাড়ায় ভিক্ষা করেন। ঝুলন্ত মুখের আকৃতি নিয়ে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সামনে গেলে তা দেকে তারা ভয় পেয়ে যায়। তাই অনেক সময় মুখে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন। কিছু কিছু প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সামনে গেলে তারাও দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলতে চায়। তারা নাকি মনে করে, এ রোগ মনে হয় তাদের কাছে চলে যাবে। আমি শুনেছি আল্লাহ মানুষকে রোগ দিয়ে পরীক্ষা করে। এটা তো আমি ইচ্ছে করে নেইনি। আমারও ইচ্ছে জাগে সকলের সাথে চলতে,কথা বলতে ও মিলেমিশে বাঁচতে। চোখের পানি ছেড়ে এভাবেই বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের প্লেক্সিফরম রোগে আক্রান্ত আব্দুল মিয়া (৫০)

১০ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে ও ১৩ মার্চ শুক্রবার সকালে রোগের সাথে জীবন চলার বাস্তবিকতা সম্পর্কে কথা হয় তার সাথে।

আব্দুল মিয়া (৫০) উপজেলার রাজবাড়ী ইউনিয়নের ধলাদিয়া গ্রামের আব্দুল আউয়াল মিয়ার ছেলে। ঝুলন্ত আকৃতির মুখের সাথে নিভু নিভু দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি।

আব্দুল মিয়া জানান, কিশোর বয়সে হঠাৎ করেই কপালের একপাশে এভাবে ঝুলতে থাকে তার। বাবা নিঃস্ব ভিক্ষুক তাই অর্থের অভাবে ভালো কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারেনি তার পরিবার। গ্রামের পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে বহুদিন ঔষধ খেয়েছেন তিনি। এছাড়াও অনেক কবিরাজের কাছেও চিকিৎসা করিয়েছেন। তাতেও কোন লাভ হয়নি। আস্তে আস্তে এটা ঝুলে এখন এ অবস্থায় চলে এসেছে। এরই সাথে হারাতে বসেছেন চোখের আলোও।

তিনি আরো জানান, মানুষের সামনে গেলে অনেক সময় মুখে কাপড় দিয়ে রাখি। কেননা এটা দেকে অনেকেরই নাকি খারাপ লাগে। আবার অনেকের সাথে থাকা শিশুরা নাকি ভয়ে কেঁদে উঠে।

রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড (ধলাদিয়া) সদস্য আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জানান, বহুদিন ধরেই আব্দুল মিয়াকে এমন অবস্থায় দেখে আসছি। উনার বাবাও ভিক্ষা বৃত্তি করে সংসার চালাতো। তাদের পরিবার খুবই অভাব অনটনের মধ্যে চলে। পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও মাঝে মধ্যে আর্থিক সহায়তা করা হয়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফতেহ আকরাম দোলন জানান, এ রোগের নাম প্লেক্সিফরম। নিউরোফাইব্রোমা, এটি একটি জেনেটিক ডিজিজ (অটোজোমাল ডোমিনেন্ট)।প্লাস্টিক সার্জারি করলে এ রোগ হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে আব্দুল মিয়াকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। যেহেতু তিনি নিঃস্ব অবস্থায় জীবন-জীবিকা নির্বাহের আপ্রাণ চেষ্টা করেন সেহেতু তার জন্য অন্য কোন সরকারি সুবিধার আওতায় আনা যায় কিনা তা বিবেচনা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন জানান,ডাক্তারের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী তিনি যদি প্লাস্টিক সার্জারি করতে আগ্রহী হন তাহলে আব্দুল মিয়াকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।