ডিজিটাল ব্যবসায় সফল মুরাদ; পিতামাতাকে বাড়ি উপহার

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

পড়াশোনার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবসায় (অনলাইন ব্যবসা) লাভের টাকায় বাবা-মাকে ফ্রিজ ও বাড়ি উপহার দিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) খাদ্যপ্রযুক্তি ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী পুষ্টিবিদ মুরাদ। রাজশাহীর পবা থানার পাইকপাড়া গ্রামের মুন্তাজ আলী এবং রেণুফা বেগম দম্পতির তৃতীয় সন্তান পুষ্টিবিদ মুরাদ। করোনার এ মহামারীর সময়ে স্নাতক শেষ করে বসে না থেকে ভেবেছেন ভিন্নভাবে। অন্যদের থেকো আলাদা হয়ে আলাদাভাবেই গড়ে তুলেছেন নিজেকে। ভাবনা ও চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন নিজ উদ্যোগের সফলতায়। পুষ্টিবিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় আগে থেকেই তার স্বপ্ন ছিল নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করার। স্বপ্ন পূরণের তাগিদে গত বছর থেকেই কাজ শুরু করেন রাজশাহীর আম নিয়ে। প্রথম বছরই অনলাইনে ৬ হাজার কেজি আম বিক্রি করেন তিনি তবে তা অন্য ব্যবসায়ীদের প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম হয়ে। অন্য আম ব্যবসায়ীদের মতো ক্রেতাদের থেকে অগ্রিম টাকা নেননি মুরাদ। ক্রেতাদের পৌছে দিয়েছেন আম, তারপর নিয়েছেন অর্থ। বিশেষ বৈশিষ্ঠ্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল, কোনো কারণে আম খারাপ হওয়ার অভিযোগ পেলে আবার নতুন করে আম পাঠাতেন ঐ ক্রেতার কাছে কোনপ্রকার অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়াই ।প্রথম বছরের লাভের টাকা খরচ না করে মুরাদ ক্রয় করেন দুটি (০২) গরু । ডিজাটাল ব্যবসার সাথে যুক্ত করেন মাটির তৈরি তৈজসপত্রের ব্যবসা। শুধু অনলাইনেই নয় (০৯) মাসে সারা দেশে প্রায় ছ’শ ত্রিশটি (৬৩০) পানির জার বিক্রি করেন তিনি। আম ক্রেতাদের বিশ্বস্ততা ও আস্থায় তিনি চলতি বছরে আবার মাত্র ৩৩ দিনে বিক্রি করেছেন ২৩ টন আম । শুধু করোনাকালীন অনলাইনে মোট ৩৫ লাখ টাকার আম ও মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করেছেন পুষ্টিবিদ মুরাদ। আর এসব বিক্রির লাভের টাকা দিয়েই বাবা-মাকে উপহার দিয়েছেন ফ্রিজ ও বাড়ি। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ মুরাদ পারভেজ বলেন, ‘গত বছর বিক্রি করা আম থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ক্রয় করেছিলাম দুটি গরু। গরু দুটি এবার অনলাইন বিজনেস প¬্যাটফর্ম উইতে বিক্রি করে লাভের কিছু অংশ দিয়ে বাবা-মাকে ফ্রিজ উপহার দিয়েছি। আর এ বছরের আম বিক্রির লাভের টাকায় মাকে বাড়ি উপহার দিচ্ছি।’ তিনি পেরেছম বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে, লেখাপড়া, চাকরী না থাকলেও নিজস্ব চেষ্টায় মেটানো যায় অর্থনৈতিক চাহিদা এই বিশ্বাস প্রমাণ করেছেন তিনি। বাবা-মা’কে আনন্দিত করার বিষয়টি বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ঈদ আমার জীবনের সেরা ঈদ। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার গাইড কেনার জন্য কাঁসার কিছু আসবাবপত্র ছিল সেগুলো বিক্রি করেছিলেন মা। গরুর দুধ বিক্রি করেও মা পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। আমার বাবা অত্যন্ত মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অভাবের কারণে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিতে পারেননি। দরিদ্র্যতার মধ্যেও বাবা চেয়েছেন আমি বড় হই। এখন তাঁদের জন্য কিছু করতে পারা এবং হাসিমুখ টা নিয়ে বেচে থাকাই আমার জীবনের বড় সার্থকতা।