ডাকসু নিয়ে কি হচ্ছে?

এইচ এম মেহেদী হাসান: দীর্ঘ ২৮ বছরের বেশি সময় পরে ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচন হয়। নির্বাচনে নুরুল হক নুর ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক ঘটনা ঘটছে। কেন এমন ঘটনা ঘটছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে? ভি পি নূরের সাথে এমন কেন হচ্ছে? তা কিন্তু এখন খুঁজে বেড় করার সময় এসেছে। মোদ্দাকথা হচ্ছে ভি পি নূর কে নিয়ে কারা রাজনীতির ফায়দা লুটতে চাচ্ছে ? আর ভি পি নূর কেনইবা বহিরাগতদের নিয়ে বারবার ডাকসু ভবনে নিয়ে যান আর সেখানে বসে দেশ বিরোধী মিটিং করেন। অর্থাৎ ডাকসু ভবনকে তিনি তার ব্যক্তিগত কাজকর্মের কার্যালয় পরিণত করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ছাত্রদের সম্পৃক্ত বিষয় বাদ দিয়ে তিনি দেশের ও দেশের বাহিরের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে অপরাজনীতির চর্চা করার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভারতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা এবং সেখানে বহিরাগতদের নিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতেও ধৃষ্টতা দেখায়। বিশেষ করে যখনই কোন ঘটনা হয় তখনই ছাত্রলীগকে জড়িয়ে দেওয়া হয়। নূর ভি পি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে আদালত কতৃক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও মানি লন্ডারিং মামলার আসামির সাথে নিয়মিত ফোনালাপ করে আসছেন এবং কি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামাতের কতিপয় নেতার সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন ভি পি নূর। বিদেশ থেকে নিয়মিত টাকা আসতে থাকে নূরের কাছে। ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ। আর বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকে ছাত্রলীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং তাই ছাত্রলীগকে কলুষিত করতে বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা। ছাত্রলীগকে কলুষিত করতে পারলেই বাংলাদেশকে কলুষিত করা যায়। তাই ছাত্রলীগ বারবার টার্গেট হচ্ছে। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে ছাত্র শিবিরের আস্তানায় পরিণত হয়। কোটা আন্দোলন নামের যে সংগঠনের জন্ম হয়েছে, আজ তারা সেখানে নেই, মেধার নামে নূরেরা যে কার্যক্রম আজ করছে তা কখনই গ্রহনযোগ্য নয়। কথায় কথায় আজ নূরেরা মেধার নামে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার নিয়ে কথা না বলে এখন ভি পি নূর ও তাদের অনুসারীরা রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে অপরাজনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বলা চলে ফরজ বাদ দিয়ে নফল নিয়ে এখন তারা ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। ভি পি নূরের বিরুদ্ধে যে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও ফোনালাপ, তারপরও নূর গলাবাজি করে যাচ্ছেন। নূর কোন অদৃশ্য শক্তির জোড়ে এমন সব অনৈতিক কাজ করছেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস জড়িত। তাইতো বারবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে টার্গেট করে ঘটনা ঘটছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তপ্ত করতে পারলেই বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা যাবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করা যাবে। তার জন্যই কি এমন ঘটনা ঘটছে বারবার? স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বিএনপি জামাত বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশের রাজনীতি করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্তাক্ত করার সব ধরণের চেষ্টা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। সুতরাং ছাত্রলীগকে এখানে সজাগ থাকতে হবে, যাতে করে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করতে না পারে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। সেই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকেও আরও বেশি নজর দিতে হবে, যাতে করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা সুযোগ নিতে না পারে। হয়তো এখানে ভি পি নূর ট্রাম কার্ড হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে খেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার উচিৎ হবে নূরকে বিশেষ নজর দাড়িতে রাখা। আর না হয় হয়তো ইতিহাস কোন অঘটনের জন্ম দিতে পারে। এখানে দেখার বিষয় যারা হামলার স্বীকার হয়েছেন তারা সবাই বহিরাগত। তাদের কি উদ্দেশ্য ছিল নূরের সাথে মিটিং করা? বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতেই কি তারা এসেছিল নূরের আহবানে? মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের সংগঠনের সাথে নূরের বাকবিতণ্ডা ও সাংঘর্ষিক ঘটনার সাথে ছাত্রলীগ জড়িত নহে। তারপরও ছাত্রলীগকে জড়ানো হয়েছে। এটা দুঃখজনক হলেও বারবার ছাত্রলীগকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কারণ ছাত্রলীগকে জড়িত করতে পারলেই ভিপি নূর হিট হয়ে যান এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিতের আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে যান। টেলিভিশনের টিআরপি বেড়ে যায় ছাত্রলীগকে জড়িয়ে নিউজ করতে পারলে, সংবাদপত্রের চাহিদাও বেড়ে যায়, তাই হয়তো অতিরঞ্জিত করে ছাত্রলীগকে নিয়ে নিউজ হয়। আর এই সুবিধাটি নিতে কাজ করে নূর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মারধর করে নূরের নেতৃত্বে বহিরাগতরা। এর পরেও উল্টো নিউজ হয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। নূরের বিরুদ্ধে যে আর্থিক লেনদেনের কথা উঠছে, সেই বিষয়কে ধামাচাপা দিতেই ভি পি নূরের সিন ক্রিয়েট। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম নূর সহ আহতদের দেখতে হাসপাতালে গেলে তাদের সাথে বিরূপ আচরণ করা হয়, তার মানে কি লন্ডনের ফোন এসেছে ভি পি নূরের কাছে। সামান্যতম সৌজন্য বোধটুকু দেখাতে ব্যর্থ হয় ভি পি নূর। সুতরাং নূর এখন বিএনপি জামাতের ট্রাম কার্ড। মিডিয়া ট্রায়ালে পরিণত হয়েছে ছাত্রলীগ। মহাকাশে কোন ঘটনা ঘটলেও এখন ছাত্রলীগকে দায়ী করা হয়। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য দেশে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে সরকারকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে (আওয়ামী লীগের) রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং যারা দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়, সেই পক্ষ যৌথভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ ধরণের ঘটনা ঘটানো ঘটাচ্ছে। রাজনীতির মাঠের বাহিরে ও ক্ষমতার বাহিরে যারা আছেন, তারাই দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তরা করে যাচ্ছে। রবিবারের ঘটনায় ভি পি নূর কি উদ্দেশ্য বহিরাগতদের নিয়ে আসেন ঢাবিতে? এখনই বিষয়ে অধিক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্হা না হলে হয়তো এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামানো যাবেনা। সুতরাং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, সেই কমিটির রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে বড় ধরণের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করবেন এমনটা আশা শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর। ডাকসুর ইতিহাসে এমন ভি পি মনে হয় আর দেখা যায়নি। যিনি নিজের দায়িত্ব কর্তব্য রেখে অন্যদিকে ঝুঁকে আছেন। তিনি শুধু বিত্তবৈভবের মাত্তে মাতিয়ে জীবন কাটাতে ব্যস্ত হয়ে আছেন। কখন কোন দলের নেতা তাকে ফোন দিয়ে দেশ বিরোধী আন্দোলনের এজেন্ডা দিবেন সেই দিকে তিনি ঝুঁকে আছেন। ডাকসুর মতো জায়গায় থেকে তিনি তার ব্যক্তিগত খাসকামড়ায় পরিণত করেছেন ডাকসুর কার্যালয়কে। তিনি নিয়মিত বহিরাগতদের নিয়ে ডাকসুতে বসে তার ব্যক্তিগত সংগঠনের মিটিং ও ছলাপ্ররামর্শ করছেন। এই বিষয় নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে ভি পি নূরের দূরত্ব তৈরি হয়। নূরের ফোনালাপ আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায়ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছে নূর তার জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় পৌঁছায়। আর এই জন্য নূর তার জনপ্রিয়তা আবার ফিরে পেতে বিভিন্ন ঘটনার অন্তরালে সিনক্রিয়েট করে। আর তার জ্বলন্ত প্রমাণ রবিবারের ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাথে ভি পি নূরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে আর সেই দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে রবিবার। আর সেখানে ছাত্রলীগকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন খবর প্রকাশিত হয়। তাতেই নূর সুপার হিট হয়ে যায়। যারা জনগণ থেকে ভোটের মাধ্যমে ঘৃনা ভরে প্রত্যাখাত হয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বারবার মরণ কামড় দিয়ে আসছে, সেই শক্তিই ভিপি নূরের উপর ভর করে আছে। নূর হয়তো অনেক সময় বুঝেও না বোঝার ভান করে আছেন। সুতরাং নূর এখন দেখছেন তার সমাদর পায় ঘি মাখার মতো। তাই তিনি মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন তার চরিত্রের রোল। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিদের কৌশলগত কারণেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও মিডিয়া থেকে শুরু করে সরকারও মাঝে মাঝে তা ক্যাচ করতে পারছেনা। আর তার মাশুল দিচ্ছে ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাথা উঁচু করে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন যে ডাকসুর জন্ম হয়েছে ইতিহাসের মধ্য দিয়ে। মৌলবাদ জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক শক্তিদের বিষ দাঁত ভাঙতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান পরিবেশ, অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। আর সেই ডাকসুকে আজ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ধ্বংস করার জন্য ভি পি নূরের উপর ভর করে আছে, অধিকার আদায় দূরের কথা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করে যাচ্ছে অনবরত। সুতরাং এধরণের ঘটনার পুনারাবৃত্তি দেখার আগেই যেনো কঠোর ব্যবস্হা নেওয়া হয়। রাজনীতির বারোটা বাজিয়ে ছিল অবৈধ শাসক খুনি জিয়াউর রহমান। আর সেই ধারাকে জীবিত রাখার অঙ্কুর হিসেবে নূরকে ইউজ করছে ঐ শক্তি। নূরদের মতো অন্তঃসারশূন্য মেধাবীদের জন্য আজ বড় মায়া হয়