ট্যাক্স আদায়ে ধনীদের প্রতি নির্দয় হতে হবে : অর্থমন্ত্রী

দেশে ধনী ব্যক্তিরা ট্যাক্স দিতে পারলেও দেন না। তাই ট্যাক্স আদায়ে তাদের প্রতি কিছুটা হলেও নির্দয় হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘ধনী যারা আছেন, যারা এফোর্ট করতে পারেন, তারা এগিয়ে আসেন না। এটা ভালো লক্ষণ না। বিদেশে গিয়ে যে পরিমাণ খরচ করে, এর ১০ ভাগের একভাগও যদি ট্যাক্স হিসেবে দিত, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হত। সে জন্য আমি মনে করি, কিছুটা হলেও তাদের (ধনী) প্রতি নির্দয় হতে হবে। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জিরো টলারেন্স। তবে যেখানে সাধারণ মানুষকে উপকার করা লাগে, সেখানে সাহায্য করা হবে।’

রোববার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের রাজস্ব সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আপনারা (এনবিআরের কর্মকর্তা) বলেছেন, ৪৪ লাখ মানুষ এ বছর ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু দেশে চার কোটি মানুষ আয়কর দেয়ার ক্ষমতা রাখে। তাহলে কেন তারা আয়কর দিচ্ছে না। যারা ট্যাক্স দেয়ার ক্ষমতা রাখে, অথচ দিচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আইনের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ট্যাক্স আদায়ে প্রয়োজনে অতিরিক্ত এক লাখ জনবল নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা বাড়িতে বাড়িতে যাবে। যারা আয়কর দেয়ার উপযুক্ত, কিন্তু দিচ্ছে না, তাদেরকে চিহ্নিত করে আমাকে দেবে। যারা ট্যাক্স দেয়ার ক্ষমতা রাখে, তাদেরকে আমরা ছাড় দেব না। কম দিক আর বেশি দিক, ট্যাক্স আমাদের আসতে হবেই। অন্য এলাকায়ও আমরা ছাড়ের পরিমাণ কম দেব।’

অর্থমন্ত্রী জানান, গত বছর আমাদের ঘাটতি ছিল ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এবারের বাজেটে ট্যাক্স খুব একটা বাড়ানো হয়নি। সবাই সহায়তা করলে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাজেটে এমন কী আছে যেটা আমরা প্রতিপালন করতে পারব না। আমরা যদি রেভিনিউ অর্জন করতে না পারি, তাহলে আপনাদের বেতনটা কোত্থেকে আসবে? এটা আপনাদের মাথায় রাখতে হবে। তাছাড়া অর্থবছরের শুরুতেই খরচ হতে থাকে।’

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দায়িত্বটা আমাদেরকে সুচারুরূপে পালন করতে হবে। সরকার আমাদেরকে একটি চুক্তির ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ করেছেন, এটাতেই আমাদের রুজিরুটি। কাজেই সরকার যে দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছে, তা পালন না করলে জবাবদিহি করতে হবে।’