টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারে

শিপন পাল, সদর প্রতিনিধি (কক্সবাজার): দুইদিন আগে থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ছিল কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে। মঙ্গলবারও কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টি হয়। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে ভারি বর্ষণের ফলে বিপর্যয় নেমে আসে কক্সবাজারে। এই বিপর্যয় হানা দেয় কক্সবাজার শহর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক-উপসড়ক ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে।

কক্সবাজার শহরের স্থায়ী বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, টানা বর্ষণে কক্সবাজার শহর এখন টইটম্বুর। পুকুরে পরিণত কোন কোন স্থানে। একাকার হয়ে গেছে শহরের নালা ও সড়কগুলো। ভারি বর্ষণের স্রোতে নালায় দীর্ঘদিন জমে থাকা ময়লা সড়কে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে কিছু কিছু পাহাড়খেকো এই বর্ষণে পাহাড় কাটায় বৃষ্টির পানি রংও বদলে গেছে। পাহাড়ি ঢলেও নালা ও সড়কগুলো কাদায় ভরপুর হয়ে গেছে।

দেখা গেছে, ভারি বর্ষণের কারণে শহরের টেকপাড়া, উত্তর রুমালিয়ারছড়া, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, পাহাড়তলী, পেশকার পাড়া, কলাতলী, মাঝিরঘাট, বিজিবি ক্যাম্প এলাকাধীন, গোলদিঘীর পাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, নুনিয়ারছড়া সহ শহরের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো ঢলের পানিতে ঢুবে গেছে। কোথাও কোথাও করোনাকালে বন্ধ দোকানেও ঢলের পানি ঢুকে গেছে।

এদিকে কক্সবাজার পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে প্রশাসনের নির্দেশনায়ঢ লকডাউন চলছে গত ৬ জুন শনিবার রাত থেকে। এই ১২টি ওয়ার্ডে শতাধিক পৌর আওয়ামী লীগের কর্মী কাজ করছে করোনা নির্মূলের সচেতনতায়। কর্মীদের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে বলেন, “একদিকে করোনা লকডাউন, অন্যদিকে ভারি বর্ষণ। ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধ্বসের সম্ভাবনা আছে। কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সম্মানিত স্বেচ্ছাসেবক ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই মহা বিপদকালিন সময়ে জনগণের পাশে থেকে তাদের সহযোগিতা করুন এবং সম্ভাব্য এলাকায় জনগণকে সচেতন করুন।”

কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন বলেন, একদিকে করোনা অন্যদিকে বর্ষার পানির ঢল। দুইটিই পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। গত দুইদিনের ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চল ডুবে গেছে। বর্ষণের কারণে অনেকের ক্ষতি হয়েছে অপূরণীয়। যা করোনার চেয়ে বেশি। অনেকে বাসা-বাড়ি, দোকানপাটে পানির ঢল ঢুকে সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মূলতঃ কক্সবাজারে এই সমস্যা একদিনের নয়। প্রতি বৎসর ভারি বর্ষণের প্রভাব পড়ে কক্সবাজারে। ক্ষতির সম্মুখিন হয় হাজার হাজার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। একদিকে পাহাড় কাটা অব্যবহত এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভরাটকৃত নালা-নর্দমাগুলো পরিস্কার না করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টি পড়লেই পাহাড় কাটতে তড়িগড়ি শুরু হয় কক্সবাজারে। এই পাহাড়ি ঢলগুলো নালায় এসে জমাট বাঁধে। এর ফলে বর্ষার পানির ঢল নামতে বাধার সৃষ্টি হয়। নালার পানি উঠে আসে সড়ক-উপসড়কগুলোতে এবং মানুষের বাসা-বাড়িতে। সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন চলাচলে দারুন অসুবিধার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির আগেই নালা-নর্দমাগুলো পরিস্কার করার জন্য আমরা বার বার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাই এবারেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে ভারি বর্ষণের ঢল থেকে কক্সবাজারবাসীকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অনুরোধ জানাচ্ছি।