জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবয়ব প্রতিচ্ছবি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

এইচ এম মেহেদী হাসানঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক, মহাকালের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহীয়সী নারী বঙ্গমাতার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি টুঙ্গিপাড়াতে বাল্য শিক্ষা নেন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয় ভর্তি হন।১৯৬৫ সালে তিনি আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মজীবন প্রায় চার দশকেরও বেশি।১৯৮১ সালে তাঁকে উপমহাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করার সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জার্মানিতে থাকার কারণে বেঁচে যান। পিতা মাতা ভাইবোন ও নিকট আত্মীয় স্বজন হারিয়ে দুই বোন বিদেশে নির্বাসিত ছিলেন।পর্বতসম বেদনা নিয়ে তিনি জীবনের বাকি পথ চলতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ বির্নিমাণ করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে খুনি জিয়াউর রহমানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রিয় মাতৃভূমিতে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।দুঃখ বেদনা কষ্ট কে জীবনের পাথেয় হিসেবে নিয়ে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন দেশপ্রেম ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যান্নয়নে। দীর্ঘ একুশ বছর বাঙালি জাতিকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লড়াই চালিয়ে যেতে হয় শেখ হাসিনাকে।জাতির পিতা বিহীন বাংলাদেশ চলছিলো পরাজিত শক্তির অসদৃশ্যের ইশারায়। সুমহান মুক্তিযুদ্ধের লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসকে পাশকাটিয়ে, অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধের বাংলাদেশে প্রতিকৃয়াশীলদের ক্ষমতার নগ্ন আচরণের মধ্য দিয়ে চলছিলো থমকে থমকে। সাধারণ মানুষের কোনো ভোটের অধিকার ছিলোনা, গণমাধ্যমের অধিকার খর্ব করে সামরিক ফরমান সরকারের পথ চলা শুরু হয়। রাজনৈতিক সামাজিক অধিকারও খর্ব করে ছিলো প্রতিকৃয়াশীল গোষ্ঠীরা। বাঙালির যে অধিকারের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চৌদ্দটি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। সেই অধিকার খর্ব করে করেছিলো স্বাধীন দেশে বিএনপি জামাত।
স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বিএনপি জামাতের হাত থেকে পিতা মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য শেখ হাসিনা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথরিয়া চষে বেড়িয়েছেন।এবং সাধারণ মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার মধ্য দিয়ে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দেশ পরিচালিত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লড়াই চালিয়ে যেতে হয় শেখ হাসিনাকে। দীর্ঘ একুশ বছরের জঞ্জাল পরিস্কার করতে অনেকটা পথ শেষ হয়ে যায়। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিলো বীরদর্পে তখনই স্বাধীনতা বিরোধীদের অর্থাৎ বিএনপি জামাতের নগ্ন ছোঁবল ও দেশীয় আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কারণে আবারও অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে পাকিস্তানের পরাজিত শক্তি। পিতা মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশকে ম্যাসাকার করে ফেলে। বহিঃ বিশ্বে বাংলাদেশ হয় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের জনপথ হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করে বিএনপি জামাত।বাঙালি জাতির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বিএনপি জামাত।নিজেদের পকেটভারী ও নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নই ছিল বিএনপি জামাতের মূল লক্ষ্য। সুতরাং বাঙালির ভাগ্যের ললাটে অমানিশা ঘোর বিএনপিজামাত।
রাষ্ট্রণায়ক শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছিলেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার, ২০১৪ সালে তৃতীয়বার, ২০১৯ সালে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।আর এর মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশ যে এগিয়ে যায় তাঁর প্রমাণ ইতিমধ্যেই দেশবাসী পেয়েছে। সারা বিশ্বের মধ্যে সততা ও আদর্শের উৎকৃষ্ট উদাহরণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার জননী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ জননেত্রী রাষ্ট্রণায়ক শেখ হাসিনা। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা,সাহস সততা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও উপস্থিত মেধা মনন মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনাই একমাত্র রাজনীতির দর্শন হিসেবে গ্রহণ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত যাঁর ধমনীতে বহমান তিনিই শেখ হাসিনা এবং তিনিই বঙ্গবন্ধুর অবয়ব প্রতিচ্ছবি। আর তিনিই বাঙালি জাতির ভাগ্য উন্নয়নের চাবিকাঠি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিজেকে তৈরি করেছেন পিতা মুজিবের আদর্শে, তিনি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও বেশ খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলা ও বাঙালিকে পিতার মতো করেছেন সারা বিশ্বে মহিমান্বিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদী প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্ষমতাশীল ব্যক্তি। তিনি বিশ্বের সফল সেরা রাষ্ট্র্রণায়ক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর শেখ হাসিনা ই দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র নেতা, যিনি শান্তি উন্নয়নের অগ্রনায়ক।শেখ হাসিনার মতো এতো সাহস, সসতা ও তীক্ষè মেধার অধিকারী এবং দ্রæত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী রাষ্ট্র্রণায়ক পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। একজন রাষ্ট্ররণায়ক শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে উচু থেকে উঁচুতে অনবরত নিয়েই যাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়। জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ।
লেখক : সাবেক সহ-সভাপতি- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় সংসদ।