জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

এইচ এম মেহেদী হাসান:
ব্রিটিশ সরকার থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলের প্রতিটি সরকার তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে কেবলমাত্র একটি মানুষকেই চিহ্নিত করেছে। তাঁর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই তাঁকে বারংবার কারাগারে যেতে হয়েছে, একটার পর একটা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক, বাঙালি জাতির পিতা, মহাকালের মহানায়ক এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি উনিশশো বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট গঠন, আটান্নর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ছিষট্রির ছয়-দফা, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ এদেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙক্ষা পূরণে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এই জাতিকে নেতৃত্ব দেন। এজন্যে তাঁকে বারবার কারাবরণসহ অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। সকল প্রকার অত্যাচার, শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে সমবেত লাখো লাখো জনতার সামনে দ্ব্যর্থকন্ঠে ঘোষণা করেন,’এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, একবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ‘ তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব,তবু এদেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। ‘ বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাহস,বাগ্মিতা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এদেশের সর্বশ্রেণীর মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ নয়মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এই স্বাধীনতা অর্জনই বঙ্গবন্ধু তথা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। ১৯৭১ সালের ৩ আগস্ট পাকিস্তান টেলিভিশন থেকে বলা হয় ১১ আগস্ট থেকে সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু হবে। এই ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ এবং উদ্বেগের ঝড় বয়ে যায়। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রবাসী বাঙালিরা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী সন ম্যাকব্রাইডকে ইসলামাবাদে পাঠান। কিন্তু পাকিস্তানী জান্তা সরকার বিদেশী আইনজীবী নিয়োগে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। ১৯৭১ সালের ১০ আগস্ট পাকিস্তানি জান্তা সরকার বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমর্থনের জন্য আইনজীবী একে ব্রোহীকে নিয়োগ দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে যখন ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খানের ভাষণের টেপ শোনানো হয় তখন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে অস্বীকার করেন এবং ব্রোহীকে অব্যহতি দেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবতা স্পর্শ করতে থাকে। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়া খানের সামনে হাজির করা হয়। ইয়াহিয়ার সঙ্গে ছিলেন ভুট্টো এবং জেনারেল আকবর। ইয়াহিয়া করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালে বঙ্গবন্ধু বলেন’ দুঃখিত ও হাতে বাঙালির রক্ত লেগে আছে, ও হাত আমি স্পর্শ করবো না ‘। এ সময় অনিবার্য বিজয়ের দিকে এগুতে থাকে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির সংগ্রাম যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন লায়ালাপুর কারাগারে ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ঐ সমঝোতা প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু ঘৃনা ভরে প্রত্যাখান করেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠনের মধ্য দিয়ে আসে আমাদের বিজয়। বাঙালি জাতি মুক্ত হয় পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে। কিন্তু মুক্তির অপূর্ণতা রয়ে যায় স্বাধীনতার স্থপতি তখন নির্জন কারাগারে। ১৯৭২ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জুলফিকার আলী ভূট্রো করাচিতে ঘোষণা করেন ‘শেখ মুজিবকে বিনা শর্তে মুক্তি দেয়া হবে ‘। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। পিআইয়ের একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠানো হয়। ৮ জানুয়ারি ভোরে বঙ্গবন্ধু লন্ডনে পৌঁছেন। তাঁর হোটেলের সামনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন ‘আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই’। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সকালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের আগ্রহে ব্রিটেনের রাজকীয় বিমান বাহিনীর এক বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু নয়া দিল্লি পৌছালে রাষ্ট্রপতি ভি.ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধু বললেন ‘অশুভের বিরুদ্ধে শুভের বিজয় হয়েছে। ঐ দিন বিকেলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। লাখো মানুষের জনস্রোত, বাঁধভাঙ্গা আবেগে অশ্রুসিক্ত জাতির পিতা বলেন ‘আজ আমার জীবনের স্বাদ পূর্ণ হয়েছে ‘। ঐ দিন জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু হৃদয়কাড়া এক ভাষণ দেন। ঐ রাতেই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন কাঠামো প্রবর্তন করে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ স্বাধীনতার মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ শোষনহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়। ১৯৭২ সালের ২০ এপ্রিল শুরু হয় গণপরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদিত হয়। এ উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষনে বঙ্গবন্ধু বলেন’ বিজয়ের ৯ মাসের মধ্যে শাসনতন্ত্র দেয়া,মানুষের মৌলিক অধিকার দেয়ার অর্থ হলো জনগণের উপর বিশ্বাস করি। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয়। বাতিল করা হয় গণপরিষদ। ১৯৭২ সালের ৭ মার্চ নতুন সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০০ টি আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে বিজয়ী হয়।

১৯৭৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ, সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাঙালি জাতির নেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনী বিল পাশ করেন। এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৫ সালের ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি এক ডিগ্রীর মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সম্মিলনে ‘ বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ ‘ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ রাজনীতির পুরোধা পুরুষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে তিনি মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ‘আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করেন। তিনি বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফার প্রণেতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবজ্ঞা পুরুষ। মুক্তিযুদ্ধের সফল রুপকার। তাঁর ৭ই মার্চের ভাষনই ছিলো গেরিলা যুদ্ধের কৌশল। একটি দেশ স্বাধীন হবার মাত্র ৫০ দিনের মাথায় সে দেশ থেকে বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার ছিলো একটি বিস্ময়কর ঘটনা। বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞায় এবং দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই ১৯৭২ এর ১২ মার্চ ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মধ্যে জাতিকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দেন। ১৯৭২ এর ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হয়। ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই ড.মুহাম্মদ কুদরত-এ -খুদাকে সভাপতি করে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। কমিশন ১৯৭৪ সালের মে মাসে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে কৃষি ক্ষেত্রে নেয়া হয়েছিল ব্যাপক কর্মসূচি। এর মধ্যে ছিলো ৪০ হাজার শক্তি চালিত লো লিফট পাম্প ২৯০০টি গভীর নলকূপ ও ৩০০০ অগভীর নলকূপ। ১৯৭২ সালের মধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে বিনামূল্যে ১৬,১২৫ টন ধান বীজ,৪৫৪ টন পাট বীজ এবং ১০৩৭ টন গম বীজ সরবরাহ করা হয়। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা চিরতরে রহিত করা হয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে শিল্প কারখানা রক্ষায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ জাতীয়করণ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর ফলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে শিল্প -কলকারখানা আবার চালু হয়। ব্যাংক, বীমা জাতীয়করণের ফলে গতি সঞ্চারিত হয়। প্রথম বাজেটে জনগণের উপর কোন কর আরোপ করা হয়নি। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে পূণঃগঠন করেন। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধু সিভিল প্রশাসন পূণঃগঠন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৪২ টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেন। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং ওআইসির সদস্য লাভ করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু প্রথম বাঙালি যিনি একটি দেশের সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে প্রথম এক বছরেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত ২৮৭টি সেতুর মধ্যে ২৬২টি, ২৭৪টি সড়ক সেতুর মধ্যে ১৭০টির মেরামত শেষ হয়। দশ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূণঃনির্মাণ করা হয়। মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবি মাত্র ৫৫ বছরের জীবনে এতটা অর্জন কী করে সম্ভব হলো? একটা জাতিকে ধীরে ধীরে আত্মমর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্যে সচেতন করে বছরের পর বছর জেল -জুলুম সহ্য করে গণতান্ত্রিক পথে স্বাধীনতার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাক দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তাপর তাঁর নামে নয় মাস ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ তাঁর নেতৃত্বেই স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানের ফাঁসির মঞ্চ থেকে তিনি বিজয়ী বীরের বেশে মাতৃভূমিতে ১০ জানুয়ারি ফিরে এসেছেন। কৃতজ্ঞ জাতি তাঁকে জাতির পিতার মর্যাদা দিল। পৃথিবীতে খুব কম নেতাই আছেন যারা তাঁদের জীবদ্দশায় তাঁদের আন্দোলনের সাফল্য দেখে যেতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধু সেই সৌভাগ্যবানদের একজন যিনি একটা জাতিকে স্বাধীনতার আন্দোলনে একতাবদ্ধ করতে পেরেছিলেন এবং চূড়ান্ত বিজয় এনে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কিন্তু হঠাৎ করে জাতির পিতা হয়ে যাননি। আমরা যদি তাঁর আত্মস্মৃতিমূলক গ্রন্থ দুটি ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ‘ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ পাঠ করি, তবে দেখব সারা জীবন ধরে কত সংগ্রাম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তাঁকে চলতে হয়েছে। পারিবারিক বন্ধনকে উপেক্ষা করে দেশের জন্যে, দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্যে কাজ করে গেছেন তিনি। বাঙালির চরম দুর্ভাগ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে গড়ে তোলার জন্যে মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। একটা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশে শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছিল। তবু আজ যখন আমরা যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিই,কোনো নতুন কিছু করার উদ্যোগ নিই,তখন দেখতে পাই বঙ্গবন্ধুর সরকারের সময়ে এসব বিষয়ে ভেবেছিল এবং কাজেরও সূচনা করেছিলেন, পাশাপাশি বাস্তবায়নও করেছিলেন। তাঁর দূরদর্শিতার প্রতি বারবার অবনত হতে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে পাঠ্যপুস্তকে ও গণমাধ্যমে। কিন্তু না,চাঁদ-সুরুজের মতো তিনি আরও বেশি আলোকিত হন এবং ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ‘ ও বিশ্ব বন্ধু রুপে আবিভূত হন। বঙ্গবন্ধু শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। একটি আন্দোলন। একটি বিপ্লব। একটি অভ্যুত্থান। জাতি নির্মাণের কারিগর। একটি ইতিহাস। তিনি অমর, অবিনশ্বর। ইতিহাস মহানায়কদের সৃষ্টি করে না। মহানায়করাই ইতিহাসের গতিপথ নিরূপণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সঠিক পথে ফিরে এসেছে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানতে পারছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। যেদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, সেইদিন থেকেই মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার জন্য জাতির পিতাকে প্রতীকী অভিবাদন জানানো হবে এবং জাতীয় প্যারেডগ্রান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে শততমজন্মবার্ষিকীর উদ্বোধন উপলক্ষে দেশ বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে জাতির পিতার প্রতি তাঁদের কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা বহিঃপ্রকাশ। সমগ্র দেশবাসী ও সারা বিশ্ব অন্য রকম এক বাংলাদেশ দেখবে জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস থেকে।
লেখক; কলামিস্ট, সাবেক সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।