পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আবেদ আলী বেপারীর বাড়ী জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হন শ্রমিক মো. হাসান বেপারী। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৮ আগষ্ট ) দুপুরে। আহত হাসানের স্ত্রী সুমানা বেগম জানান, পারিবারিক জমি নিয়ে হাসানের ছোট চাচা আনসার বেপারীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মিজান বেপারীর কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় মিজান তার চাচাকে গালমন্দ করলে হাসান প্রতিবাদ করেন। এতে মিজান উত্তেজিত হয়ে হাসানকে ঘুষি মারেন। তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় বিএনপি নেতা গফার বেপারীর উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও, মিজান বেপারীর সঙ্গে থাকা আইয়াদুল বেপারী, আনসার বেপারী, রফিক বেপারীসহ আরও কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। তারা প্রথমে আমার ছোট চাচার ঘরে, এরপর আমাদের ঘরে এবং শেষে বাবার ঘরেও ভাঙচুর চালায়।” হামলাকারীরা সুমানার স্বামী হাসানকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। অভিযোগ অনুযায়ী, আইয়াদুল বেপারীরসহ তার ভাগ্নে হাসিবুল লাঠি দিয়ে হাসানের পিঠে আঘাত করলে তার মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির উঠানে ফেলে মারধর করা হয়। হামলায় হাসানের স্ত্রী, বৃদ্ধ পিতা ও ১২০ বছর বয়সী দাদিকেও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি হাসানের দুই শিশু সন্তানকেও লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়।এ ঘটনায় অভিযুক্ত আইয়াদুল বেপারীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a Reply