ছেলের গলা কেটে হত্যা, স্বীকার করলো বাবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ায় জমি থেকে শিশু সাইমনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ৯ বছরের ছেলেকে গলাকেটে হত্যার পর মরদেহ জমিতে ফেলে যান বাবা বাদল মিয়া (৩০)। রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদতের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বাদল। সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ার বাসিন্দা তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরব প্রবাসী বাদলের সঙ্গে ২০১২ সালে সদর উপজেলার ভাদুঘর গ্রামের মিলি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পাঁচ মাস দেশেই ছিলেন বাদল। পরবর্তীতে সৌদি আরবে যাওয়ার পর জানতে পারেন মিলি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর সায়মনের জন্ম হয়। কিন্তু বাদলের মনে সন্দেহ ছিল সায়মন তার ছেলে না। প্রবাসে যাওয়ার পর মিলির সঙ্গে অন্য কোনো পুরুষের সম্পর্ক হয়েছে। এ সন্দেহ থেকে সায়মনকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন বাদল।
আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুযায়ী নিহত শিশুর বাবা বাদল মিয়াকে পুলিশের সন্দেহ হয়। শনিবার রাতে তাকে আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রথমে সে টালবাহানা করলেও পরে হত্যার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় বাদলের স্ত্রী মিলি বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।’ বাদলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে কাজি মাসুদ জানান, ২০১২ সালে বাদলের সঙ্গে মিলির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাইমন (৯), আইমান (৬) ও নাইম (৪) নামের তিন ছেলে রয়েছে। তবে বাদলের দাবি সাইমন তার সন্তান নয়, আইমান ও নাঈম তার সন্তান।আইমান ও নাঈমকে সাইমন প্রায় সময় মারধর করে। এ নিয়ে বাদল মিয়ার ভেতরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।পুলিশ পরিদর্শক জানান, সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে সাইমন মারধর করে আইমান ও নাঈমকে। এরপরই বাদল মিয়া সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রীর ‘জারজ’ সন্তান সাইমন তার নিজের দুই ছেলেকে মারধর করে, তাই সাইমনকে সে মেরে ফেলবে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার সকালে সাইমনকে ঘাস কাটার কথা বলে জমিতে নিয়ে যায় বাদল মিয়া। সেখানে কাঁচি দিয়ে সাইমনের গলাকেটে হত্যা করে বাদল মিয়া।