গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর বিটের সাতখামাইর মৌজায় কয়েকজনের দখলে থাকা ১০ একর জমি উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। উদ্ধারকৃত বনভূমিতে বনায়ন কার্যক্রমও শুরু করে বন বিভাগের লোকজন। এসময় বন বিভাগের লোকজনের সাথে দখলদার ব্যাক্তির কথা কাটাকাটি বাঁধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেসময় সংঘাতের আশঙ্কা থাকায় কৌশলে তা স্বাভাবিক ভাবে মোকাবিলা করে রেঞ্জ কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার সকলের দিকে চারা রোপণের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের মতো ওই জমিতে বনায়ন কার্যক্রম চালানো হয়। এরআগে, সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দিনব্যাপী অভিযানে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার তাঁর লোকজন নিয়ে ওই এলাকায় ১০ একর জমি উদ্ধার করে। এরপর তাদের ব্যবস্থাপনায় ওই জমিতে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়।
সুত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে বন বিভাগের বিরুদ্ধে রেকর্ড সংশোধনী মামলা দায়ের করেন উপজেলার সাতখামাইর গ্রামের সাহাব উদ্দিন মোল্লাসহ কয়েকজন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি আদালত মামলার রায় বন বিভাগের পক্ষে দেন। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সোমবার দিনব্যাপী অভিযানে প্রায় ১০ একর জমি উদ্ধার করে সেখানে বনায়ন শুরু করে বিভাগ।
স্থানীয়রা বলেন,’ দীর্ঘদিন ধরে আইনের মারপেঁচ দেখিয়ে ওই জমি নিজেদের কব্জায় রেখে দিয়েছিল একটি মহল। আগে বন বিভাগের লোকজনের সাথে রফাদফা করেই চলতো। বর্তমান সরকারের কঠোর নির্দেশনায় এ অভিযান হয়েছে। বনভূমি উদ্ধারের মাধ্যমে সরকারি জমি সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা আরও বলেন,’ কারখানা গুলো বেশীরভাগ জমিই দখল করে রাখে। কিন্তু ইতিপূর্বে আমরা দেখি বনের লোকজন ছোটখাটো জমি উদ্ধারের বেশী তৎপর থাকে। আজকের এই বড় জমি উদ্ধারের জন্য বন বিভাগের লোকজন অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।’
যদিও ওই জমিতে যাওয়া মাত্রই বন বিভাগের লোকজনের সাথে দখলদার ব্যাক্তিদের কথা কাটাকাটি বাঁধে। একপর্যায়ে জমি দখলদারত্বের একজন স্থানীয় সাহাব উদ্দিন মোল্লা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
‘আপনি হাইকোর্ট মানে না.? কোর্টে মামলা আছে। আপনি আসছেন জমি জোর জবরদস্তি করে জমি দখল করতে। আপনার জানা আছে। এমন কিছু হবে আপনি চাকরি থুইয়া খালি কোর্টে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।
যদিও পরে ওই জমির রেকর্ড সংশোধন মামলার বাদী সাহাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আমরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন আদালত যে রায় দিয়েছেন, আমরা সেটি মেনে নিয়েছি।”
তবে, বনের লোকজনকে সাথে তর্কবির্তকে জড়ালেন কেনো, এমন প্রশ্নের উত্তরে জবাব দিতে নারাজ তিনি।
শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আইনানুসারে ওই জমির বৈধ মালিক সরকার। আমরা সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা জমি উদ্ধার করে সেখানে বনায়ন করেছি। কিছু বাঁধা বিপত্তি থাকবেই। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব পালন করতেই হবে। ইতোমধ্যে ওই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো শুরু হয়েছে। অবৈধভাবে বনের জমি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। ”
Leave a Reply