চট্টগ্রাম বিআরটিএ দালালের চক্রের উৎপাত, র‍্যাবের অভিযানে আটক ২১

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিসে দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের সেবা প্রার্থীদের। দালালের ছাড়া কাজ করতে গেলেই মাসের পর মাস হয়রানি হতে হয়। দালালের চক্রের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দালাল ও প্রতারকচক্রের ২১ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম।

অভিযোগ রয়েছে, মোটরযান ও ড্রাইভিং রেজিষ্ট্রেশন করতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা টাকা আদায় করে দালাল চক্র।

রবিবার (১৩ জুন) দুপুরের চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানার নতুনপাড়া এলাকার বিআরটিএ কার্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক(মিডিয়া) মোঃ নুরুল আবছার।

আটককৃত আসামিরা হলেন, মোঃ পারভেজ (৩০), মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩৫), মোঃ ফোরকান (৪৮), মোঃ সোহেল (৪০), নুর আলম (৬০), মোঃ মুন্না (২৮), নাসিম উদ্দিন (৪৯), আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৫), মোঃ জুবায়ের (২৭), রিপন দাস (২৫), বদিউল আলম (৬৪), মোঃ এনাম (২১), মোঃ এমরান, মোঃ আবুল কালাম (৪০),মোঃ নজরুল ইসলাম (৪০), মোঃ নাদিম (৪৫), মোঃ সাইফুদ্দিন (২৯), মোঃ মোরশেদ (২১), মোঃ আব্দুল হান্নান (২৪), মোঃ খোরশেদ আলম (৩৫), সরোয়ার হোসেন (২৬)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক, পতেঙ্গা বিশেষ ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি সোহেল মাহমুদ জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। পরে সেখান থেকে দালাল চক্রের ২১ সদস্যকে আটক করা হয়।’ তিনি বলেন, বিআরটিএকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্র গড়ে উঠে। তাদের উৎপাতে বিআরটিএতে সেবাগ্রহণে আসা গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এছাড়া মোটরযান ও ড্রাইভিং রেজিষ্ট্রেশন করতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা দাবি করে এই সংঘবদ্ধ দালালচক্রটি। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ২১ জন দালালকে আটক করা হয়েছে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের নিকট হতে বিভিন্ন লাইসেন্স নবায়ন ফরম, রেজিস্ট্রেশন ফরম, মালিকানা বদলী ফরম, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়ন ফরমসহ গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া প্রতারণার ২,০০,০০০ দুই লক্ষ টাকা জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উক্ত দালাল ও প্রতারকচক্রের সদস্যরা বিআরটিএ আঞ্চলিক কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা অতি দ্রুত সমাধানের নাম করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অর্থ নিয়ে পলায়নসহ বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে ভোগান্তি সৃষ্টি করে আসছে। দালাল ও প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে সাধারণ গ্রাহকগণ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

অভিযোগ আছে, খোদ বিআরটিএ’র লোকজন এই দালাল চক্রের সাথে জড়িত। সেতু মন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর কৌশল পাল্টেছে বলে সেবা নিতে আসা ভুক্ত ভোগী অনেকেই জানান। এদিকে জনবল সংকটকে পুঁজি করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে মাথাচড়া দিয়ে উঠে দালালচক্র। নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের পর থেকে বিআরটিএ’তে ফিটনেস হালনাগাদ এবং লাইসেন্স নবায়নের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালালচক্র।