চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার-স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার-স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি নির্মিত হলে অর্থনীতির নতুন দ্বার উম্মোচিত হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী  ০৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, দখল দূষন রোধে প্রণীত মাস্টার প্লান বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এ মেরিন ড্রাইভ নির্মিত হলে এ অঞ্চলে নতুন হাজার হাজার হোটেল মোটেল কল-কারখানা গড়ে ওঠবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হবে অন্যদিকে পর্যটন খাতে খুলবে নতুন দিগন্ত। বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে সারা দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ করে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করা যাবেনা। এটি করা হলে পরবর্তিতে তা নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারন হবে। কর্ণফুলী নদীর দু’পাড়ের জায়গা অবৈধ দখল করে লীজ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে সতর্ক করে তিনি বলেন, যারা সরকারি জায়গা ও স্থাপনা দখল করে আছেন, খুব শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরসহ যেসকল প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা-ঘাটসহ নানাবিধ সেবা গ্রহণ করছে তাদেরকে কর্পোরেশনের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার ট্রাক লরিসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় নগরীর অভ্যন্তরীণ রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব রাস্তা ঘাট সংস্কার করতে অর্থের প্রয়োজন, যা কর্পোরেশনের একার পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সকল প্রতিষ্ঠানকে সঠিক সময়ে কর্পোরেশনের রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দৃষ্টিনন্দন শহর হবে। এ শহরের গড গিফটেড অপরচুনিটি রয়েছে। আউটার রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ কাজ শেষ হলে শহরের চাহিদা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। কর্মসংস্থানও বাড়বে। তখন চট্টগ্রাম শুধু পর্যটন খাত দিয়েই পুরো দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে। দেশের উন্নয়ণ বেড়ে যাবে বহুগুণে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নকে শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না, পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।  তবে কাজের ক্ষেত্রে  আমাদের সবার জবাবদিহি থাকতে হবে। জবাবদিহিতার মাধ্যমে সব সংকট নিরসন করে দেশকে উন্নত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফ আহমদ এমপি, ওয়াশিকা আয়শা খান এমপি বক্তব্য রাখেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বীন আনোয়ার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হেলাল উদ্দিন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইব্রাহীম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, সিডিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান  রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ, চসিকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম চৌধুরী, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, বন্দরের সদস্য(প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহসহ সরকারি বিভিন্ন  দপ্তর প্রধানগণ বক্তৃতা করেন।