চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অভিযান, ২১৫ মামলায় প্রায় ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা

জাহাঙ্গীর আলম

সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে বিধিনিষেধ অমান্য করায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২১৫ মামলায় ৬৩ হাজার ৭ শত টাকা কঠোর লকডাউন নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা করা হয়।

রোববার (২৫ জুলাই) জেলা প্রশাসনের ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিআরটিএর ২ জন ও সিটি করপোরেশনের ১ জনসহ ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ মেনে না চলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কালে দোকানপাট/শপিংমল খোলা রাখা, অপ্রয়োজনে রাস্তায় ঘুরাফেরা করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত রাস্তায় বের হাওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ২১৫ টি মামলায় ভ্রাম্যমান আদালত ও মনিটরিং কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, আনসার,বিজিবি ও পুলিশ সদস্যগণ সার্বিক সহযোগিতা করেন। অর্থদণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সচেতন করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরীর যে সমস্ত এলাকায় অভিযান চলে, বন্দর, পতেঙ্গা ও ইপিজেড এলাকায় অভিযান পরিচালনায় করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন, তিনি ২৪ টা মামলায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

চকবাজার, বাকলিয়া ও কর্ণফুলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক,এ সময় ০৮ টি মামলায় ২৩ ( তেশ শত ) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

আকবরশাহ, বায়েজিদ, হালিশহর ও পাহাড়তলি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াসমিন ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নূরজাহান আক্তার সাথী, এ সময় ২৪ টি মামলায় মোট ৬ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

খুলশী, চাঁন্দগাও ও পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হুছাইন মুহাম্মদ ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন , এ সময় ২২ টি মামলায় ১১ হাজা ১ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খিন ওয়ানু চকবাজার, বাকলিয়া ও কর্ণফুলী এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, এ সময় ১৪ টি মামলায় ৪ হাজার ১ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

চান্দগাও,পাচলাইশ ও খুলশী এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাজিব হোসেন ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও প্লাবন কুমার বিশ্বাস এ সময় ১০টি মামলায় ৩ হাজার ৮ শত টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন।

অন্যদিকে নতুনব্রীজ,মইজ্জারটেক এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বিআরটিএ এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার দাস, তিনি ০৮ টি মামলায় ৩৪০ টাকা অর্থদন্ড আদায় করেন।

বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাও, পাচলাইশ, হালিশহর, পাহাড়তলি, লালখান বাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, তিনি ১৩ টি মামলায় ২ হাজার ২ শত টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক আমার সময়কে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ বিস্তার রোধে জেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।