চট্টগ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে একাউন্ট খোলার বিষয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে এক ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তাদের লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ভুয়া যৌথ একাউন্ট খুলে প্রতারণার ন্যাক্কারজনক অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতারক ফিরোজ আহমেদ এর সঙ্গে আঁতাত করে ব্যাংক কর্মকর্তারা স্বাক্ষর জাল করে ভুক্তভোগী আলম মিয়া-র নামে একাউন্ট চালু করেছেন। অথচ আলম মিয়া কখনো ওই শাখায় যাননি বা একাউন্ট খোলেননি। মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়— ওই ভুয়া একাউন্ট থেকে তিনবার চেক ডিজঅনার হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন প্রতারক ফিরোজ আহমেদ আদালতে আলম মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এসময়ই পুরো প্রতারণার কৌশল ফাঁস হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তারা প্রথমে দায় এড়িয়ে যান। পরে আলোচনার একপর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রতারক ফিরোজ আহমেদ কিংবা জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের এডভোকেট মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে,
মোঃ মনিরুল ইসলাম- উপ শাখা ইনচার্জ ও শালু আক্তার- একাউন্ট খোলা অফিসার, এন আর বি ব্যাংক, বন্দর টিলা, উপ শাখা, ইপিজেড, চট্টগ্রাম কে, আনুষ্ঠানিক লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। নোটিশে বলা হয়েছে— এটি ব্যাংক আইন ১৯৯১ (সংশোধিত ২০১৩) এর ধারা ৪৬ এবং দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নোটিশে তিন দফা দাবি জানানো হয়—
অবিলম্বে ভুয়া একাউন্টটি বন্ধ করতে হবে,
প্রতারক ফিরোজ আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, ভুক্তভোগীর আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সতর্ক করা হয়েছে— ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হবে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন ভুক্তভোগী আলম মিয়া। তিনি জানান, ভুয়া একাউন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায় স্বীকারের ভিডিও প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। প্রতিবেদকের মুঠোফোনে অভিযুক্ত ইনচার্জ মোঃ মনিরুল ইসলাম সাংবাদিক নেতাদের ভিজিটিং কার্ড পাঠিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অপরদিকে ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিবেদককের কন্টাক্ট নাম্বারে ফোন দিয়ে পূর্বে প্রকাশিত সংবাদটির বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং তা ডিলেট করতে বলেন।
অভিযোগ উঠেছে— জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা এখন প্রভাব ও প্ররোচনার পথ বেছে নিয়েছেন, যা ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
Leave a Reply