1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. : admin :
চট্টগ্রামে পাহাড়িদের বৈসাবি উৎসব - দৈনিক আমার সময়

চট্টগ্রামে পাহাড়িদের বৈসাবি উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্ষবরণ ও বিদায়ের অনুষ্ঠান বৈসাবির আয়োজন হলো চট্টগ্রামে।

১৯ মে (রবিবার) রাতে নগরের ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে চট্টগ্রামে বসবারত পাহাড়ি নাগরিক সমাজের উদ্যোগে
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ বাহারি সাজে সজ্জিত হয়ে বৈসাবি উৎসবে অংশ নেন। প্রতিবছর এ
পাহাড়িদের বৈসাবী পুনর্মিলনী উৎসবের আয়োজন করেন চট্টগ্রামে বসবারত পাহাড়ি নাগরিক সমাজ। আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পেশার চট্টগ্রামে বসবাসরত হাজারো পাহাড়ী জনতা।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দীপংকর তালুকদার এমপি,প্রধান অতিথি হিসেবে ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

পাহাড়ি জাতিসত্তার সংখ্যা ১৩। এর মধ্যে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ ও বিদায়ের উৎসবের আদ্যক্ষর নিয়ে হয়েছে ‘বৈসাবি’। এর মধ্যে আছে ত্রিপুরাদের ‘বৈসুক’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ আর চাকমাদের ‘বিজু’। তবে অন্যান্য জাতিসত্তার মানুষও বিষু, বিহু, সাংক্রায়ণ নামে এ উৎসব আয়োজন করেন পাহাড়ে। আজ চাকমাদের ফুল বিজু। ত্রিপুরারা আজকের দিনটিকে বলেন ‘হারি বৈসুক’। আজকের দিনে বিশেষ করে ত্রিপুরা জাতিসত্তার শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীরা নদীতে ফুল ও প্রদীপ ভাসিয়ে মা গঙ্গার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, এতে অমঙ্গল দূর হবে, পুরোনো বছরের জরাব্যাধি নাশ হবে। চাকমাদের প্রার্থনার মধ্যেও এই মঙ্গল কামনাই থাকে। এখন নগরজীবনের বাস্তবতায় পাহাড়িদের অনেকেই চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে এলাকায় যেতে পারেন না। তাই বলে উৎসবকে তো ভুলে থাকা যায় না।

বর্ণিল সাজে সজ্জিত বৈসাবি অনুষ্ঠান রাত ৭টা থেকে শুরু হয়ে পাহাড়ি বিভিন্ন নাচ ও গানের মধ্যে দিয়ে রাত ১২ টা পর্জন্ত চলে।চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এ আনন্দঘন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পিন্টু চাকমা।সমাপনী বক্তব্য রাখেন আহবায়ক দীপংকর খীসা।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে বলেন, আমরা যে যে রাজনীতিই করি না কেন আমাদের ব্যক্তি বন্ধুত্বে, সম্পকে যেন প্রভাব না পরে। আমরা সারা বছর অনেকে নিজ নিজ পেশায় কাজ করে থাকি। কারোর সাথে কারোর দেখা হয়না। এরকম পুনরমিলনী অনুষ্ঠানে সেই সুযোগ ঘটে। তাই আয়োজন কারীদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য তিন জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করা, ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটানোসহ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার একটি অন্যতম অংশ হলো এই বৈসাবি উৎসব। এখানে তিন পার্বত্য জেলার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে।

দীপংকর তালুকদার,এমপি আরও বলেন, বৈসাবি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পার্বত্যবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, শ্রদ্ধাবোধ ও আস্থা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে, যার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান শান্তি অব্যাহত থাকবে এবং দেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরো যারা উপস্থিত ছিলেন প্রকৌঃ রবিজোতি, প্রকৌঃ জ্যেতিকর খীসা, দয়াল চাকমা,, অধ্যপক আনন্দ বিকাশ চাকমা, ডাঃ সুমেধ দেওয়ান, ডাঃ অংশী মারমা সহ চট্টগ্রামে বসবাসরত ব্যক্তিগণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com