চট্টগ্রামের বন্দর থানার দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী এক তরুণীকে অধিক বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর ধারা ৬(২)/৭/৮(২)/১১/১৩ অনুযায়ী বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামী রোজিনা (১৯) বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, নিখোঁজ তরুণী মোসাঃ জেরিন আক্তার (১৯) ২০২৪ সালে হালিশহর বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং সিইপিজেড এলাকার মেরু গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। একই ক্লাসের ছাত্রী ও প্রতিবেশী রোজিনা তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।
বাদীর অভিযোগ, আসামী রোজিনা ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি পার্লারে ভালো বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে জেরিনকে প্রলুব্ধ করে এবং কাউকে কিছু না জানাতে বলে। ২০২৪ সালের ১১ জুন সকালে গার্মেন্টসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় জেরিন। পরে জানা যায়, সে রোজিনার বাসায় গিয়েছিল এবং সেখান থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সহায়তায় বাসযোগে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি অজ্ঞাত স্থানে মেয়েটিকে আটকে রেখে যৌন কাজে বাধ্য করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। পরে জেরিন ফোনে তার মাকে জানান, পাচারকারীরা তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক খারাপ কাজে নিয়োজিত করছে।
জেরিন নিখোঁজ হওয়ার পর ১৪ জুন ২০২৫ তারিখে বাদী জাহানারা বেগম বন্দর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং–৮০৪) করেন। দীর্ঘদিন পর রোজিনা দেশে ফিরে আসলে বাদী তার মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রোজিনা উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মামলা না করার জন্য চাপ দেয়। পরে পরিবারের পরামর্শে জাহানারা বেগম ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–১৩)।
নিখোঁজ তরুণীর মা জাহানারা বেগম বলেন,
“আমার মেয়েকে প্রতারণা করে ভারতে পাচার করেছে। আমি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি—যাতে এমন ভয়াবহ ঘটনা আর কোনো মায়ের জীবনে না ঘটে।”
বন্দর থানার এক কর্মকর্তা জানান, আসামী রোজিনাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি মানব পাচার সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে।
Leave a Reply