চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ান যৌথ বা একক বিনিয়োগের প্রত্যাশা

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম

‘বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য সম্প্রসারণে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ান যৌথ বা একক বিনিয়োগের প্রত্যাশা করেন ” বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার চার্জ দ্য এ্যাফায়ার্স হিদায়াত আতজেহ (Mr. Hidayat Atjeh) সঙ্গে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম ও সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মো.রুহুল আমিন ।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিদায়াত আতজেহ চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

এ সময় সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, পরিচালকবৃন্দ মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম, অঞ্জন শেখর দাশ, শাহজাদা মোঃ ফৌজুল আলেফ খান, ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন, মোঃ ইফতেখার ফয়সাল ও তানভীর মোস্তফা চৌধুরী, দূতাবাসের থার্ড সেক্রেটারী সপ্তা এন. দনঞ্জয় (Mr. Sapta N. Dananjaya) উপস্থিত ছিলেন।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক ভ্রাতৃপ্রতীম চমৎকার সম্পর্কের প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন-অমিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উভয় দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছেনি। তিনি পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে মেলবন্ধন তথা বেসরকারি খাতের উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন। চেম্বার সভাপতি বাণিজ্য সম্প্রসারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-ঢাকা-জার্কাতা অথবা ঢাকা-চট্টগ্রাম-জার্কাতা সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে দূতাবাসের ব্যক্তিগত উদ্যোগ কামনা করেন। তিনি বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ান যৌথ বা একক বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।

ইন্দোনেশিয়ার চার্জ দ্য এ্যাফায়ার্স হিদায়াত আইজাহ করোনাকালীন বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মহামারী মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন-বাংলাদেশ ও চীন যৌথ উদ্যোগে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরীই প্রমাণ করে বাংলাদেশ এতদঞ্চলের শীঘ্রই অর্থনীতির সুপার পাওয়ার হতে যাচ্ছে। চার্জ দ্য এ্যাফায়ার্স করোনা মোকাবেলায় ইন্দোনেশিয়ার সরকারকে ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে উভয় দেশ ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে এক সাথে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে পারস্পরিক সম্ভাবনাগুলো উন্মোচন করা এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দ্রুত প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চার্জ দ্য এ্যাফায়ার্স দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্পর্কোন্নয়নে চিটাগাং চেম্বারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন বলেন-উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি পণ্য বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি উভয় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে ইন্দোনেশিয়ার কর কাঠামো পরিবর্তনের প্রসংগ উল্লেখ করে কর যৌক্তিক করার আহবান জানান এবং ব্যবসায়িক বাধা দূরীকরণে অত্র চেম্বারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর চিটাগাং চেম্বারকে দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় চেম্বার উল্লেখ করে বলেন-দেশের বেশির ভাগ পণ্য দ্রব্যের আমদানিকারকগণ হচ্ছেন এতদঞ্চলের ব্যবসায়ীগণ। তিনি ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের ডিউটি বেশী উল্লেখ করে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতঃ ইন্দোনেশিয়ান ব্যবসায়ীগণ চিটাগাং চেম্বার কর্তৃক আয়োজিত চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করে তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন। দূতাবাসের থার্ড সেক্রেটারী সপ্তা এন. দনঞ্জয় পিটিএ চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে শুল্ক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও বাণিজ্য ঘাটতি নিরসন হবে বলে মন্তব্য করেন। মতবিনিময় শেষে চার্জ দ্য এ্যাফায়ার্স ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পারমানেন্ট এক্সিবিশন হল পরিদর্শন করেন।